• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

বিশ্বকাপের হাসি ফুটল সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৪ পি.এম.
গুলশানের টিএন্ডটি মাঠে ঢাকা মেট্রোপলিটন আনসারের আয়োজিত পেনাল্টি কিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে কড়াইল বস্তির সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা। ছবি: ভিওডি বাংলা
গুলশানের টিএন্ডটি মাঠে ঢাকা মেট্রোপলিটন আনসারের আয়োজিত পেনাল্টি কিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে কড়াইল বস্তির সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা। ছবি: ভিওডি বাংলা

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা শুধু টেলিভিশনের পর্দা কিংবা স্টেডিয়ামে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছেও পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন আনসার (ডিএমএ)। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে রাজধানীর গুলশানের টিএন্ডটি মাঠে কড়াইল বস্তির প্রায় ১০০ শিশুকে নিয়ে আয়োজন করা হয় একটি প্রাণবন্ত পেনাল্টি কিক প্রতিযোগিতা।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই আয়োজন ঘিরে মাঠজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ। শিশুদের উচ্ছ্বাস, হাসি আর প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। বিশ্বকাপের আনন্দ তাদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ তৈরি এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ানোই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

আয়োজকদের মতে, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি শিশুদের মধ্যে দলগত চেতনা, শৃঙ্খলাবোধ এবং নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই ভাবনা থেকেই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা মেট্রোপলিটন আনসারের পরিচালক মো. আসাদুজ্জান গণি। বিশেষ অতিথি ছিলেন আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ন (এজিবি) ও মিডিয়া সেলের পরিচালক মো. আইয়ুব আলী। এছাড়া ঢাকা মহানগর আনসারের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম জোনের জোন অধিনায়কসহ বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

খেলার মাঠটি পুরোপুরি সমতল না হওয়ায় গোল করা সহজ ছিল না। ফলে প্রতিটি পেনাল্টি শটকে ঘিরে তৈরি হয় বাড়তি উত্তেজনা। কোনো শটে উল্লাস, কোথাও হতাশা, আবার সফল গোলের পর করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে মাঠ।

শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো প্রতিযোগিতাকে প্রাণবন্ত করে তোলে। উপস্থিত অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং দর্শনার্থীরাও উৎসাহ নিয়ে খেলা উপভোগ করেন।

প্রতিযোগিতা শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা ২৫ জন শিশুর হাতে স্কুল ব্যাগ, ছাতা, পানির বোতল এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর লোগোসংবলিত মগ তুলে দেওয়া হয়।

এ ছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অন্য শিশুদেরও নিরুৎসাহিত না করে উৎসাহিত করতে প্রত্যেককে একটি করে বলপেন উপহার দেওয়া হয়। অনেক শিশুই প্রথমবারের মতো এমন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা শিশুদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের নিয়মিত পড়াশোনা, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, শিশুদের সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই। তাদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ধরনের মানবিক আয়োজন শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি ইতিবাচক মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আয়োজন শেষে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, অভিভাবক ও দর্শনার্থীরা ঢাকা মেট্রোপলিটন আনসারের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাদের মতে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে এমন আয়োজন সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি ইতিবাচক উদাহরণ।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীও জানিয়েছে, জননিরাপত্তার পাশাপাশি শিক্ষা, খেলাধুলা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ভিওডি বাংলা/জা

 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম
সংস্কৃতিসেবীরা কোনো দলের নয়, দেশের সম্পদ: ডিএসসিসি প্রশাসক
আবদুস সালাম
আবদুস সালাম ‘জুলাই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যাত্রাবাড়ীর প্রতিরোধ’
চারদিন ধরে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্তদের খাবার দিচ্ছেন বিএনপি নেতা
চারদিন ধরে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্তদের খাবার দিচ্ছেন বিএনপি নেতা