বিতর্কিত ইনফ্লুয়েন্সার অ্যান্ড্রু ও ট্রিস্টান মার্কিন মার্শাল সার্ভিসের হেফাজতে

বিতর্কিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিত্ব অ্যান্ড্রু টেট ও তার ভাই ট্রিস্টান টেটকে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, মানবপাচার এবং অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ আনার ঘোষণা দিয়েছে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল সার্ভিস দুই ভাইকে হেফাজতে নিয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের একজন মুখপাত্র জানান, যুক্তরাজ্যের প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সিপিএস জানিয়েছে, অ্যান্ড্রু টেটের বিরুদ্ধে আরও সাতটি ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া মানবপাচার, যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে পাচার এবং শিশু পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত অভিযোগও যুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে ট্রিস্টান টেটের বিরুদ্ধে একটি যৌন নির্যাতন, দুটি ধর্ষণ এবং যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে মানবপাচারের ব্যবস্থা বা সহায়তা করার তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ঘটনা ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের আগস্টের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে। নতুন অভিযোগ যুক্ত হওয়ার ফলে এই মামলায় অভিযোগকারী ভুক্তভোগীর সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন সিপিএসের স্পেশাল ক্রাইম ডিভিশনের প্রধান ম্যালকম ম্যাকহ্যাফি।
ব্রিটিশ ও মার্কিন—উভয় দেশের নাগরিক টেট ভাইদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রত্যর্পণের আবেদনও করেছে যুক্তরাজ্য।
তবে টেট ভাইদের আইনজীবী জোসেফ ম্যাকব্রাইড সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, অ্যান্ড্রু ও ট্রিস্টান নির্দোষ এবং নতুন অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রে টেট ভাইদের করা মানহানির মামলার জবাব দিতেই এসব অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, একজন নিরপেক্ষ বিচারক তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করলে তারা মুক্তি পাবেন।
এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে যুক্তরাজ্যের প্রসিকিউটররা ঘোষণা করেছিলেন, অ্যান্ড্রু টেট (৩৯) ও ট্রিস্টান টেট (৩৭) মোট ২১টি অভিযোগের মুখোমুখি হবেন। ওই অভিযোগগুলোর ঘটনাকাল ছিল ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে।
২০২৪ সালে রোমানিয়া থেকে তাদের ফিরিয়ে আনতে বেডফোর্ডশায়ার পুলিশ ইউরোপীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। রোমানিয়ায়ও নারী পাচার ও যৌন শোষণ-সংক্রান্ত পৃথক ফৌজদারি তদন্তের মুখোমুখি রয়েছেন দুই ভাই।
গত জুনে যুক্তরাজ্যে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা নারীদের পরিচয় প্রকাশের আবেদন আদালত খারিজ করে দেয়। সিপিএস জানায়, আনুষ্ঠানিক আইনি কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগকারীদের পরিচয় গোপন রাখাই প্রয়োজন।
অ্যান্ড্রু ও ট্রিস্টান টেট শুরু থেকেই তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
সূত্র: বিবিসি
ভিওডি বাংলা/বিন্দু








মন্তব্য