বিশ্বকাপ ফাইনালে থাকছেন না ডি মারিয়া, জানালেন কারণ

আধুনিক আর্জেন্টাইন ফুটবলের অন্যতম সফল অধ্যায়ের নায়ক অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। কোপা আমেরিকা থেকে শুরু করে ২০২২ বিশ্বকাপ, বড় আসরগুলোর সাফল্যে ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান। জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার পর চলমান বিশ্বকাপের ফাইনালে তাকে গ্যালারিতে দেখা যেতে পারে বলে জোর গুঞ্জন ছিল। তবে সেই সম্ভাবনায় নিজেই ইতি টেনেছেন এই তারকা।
স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ডি মারিয়া স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন না এবং নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালেও উপস্থিত থাকবেন না।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা জল্পনার অবসান ঘটাতেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন সাবেক এই উইঙ্গার।
ডি মারিয়া জানান, জাতীয় দলের সিনিয়র ফুটবলার ও কোচিং স্টাফের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার মতে, বর্তমান দলের পরিবেশ ও শৃঙ্খলায় কোনো ধরনের প্রভাব ফেলতে চান না তিনি।
ডি মারিয়া বলেন, “আমি জাতীয় দলের বর্তমান ‘ইকোসিস্টেম’ বা চেনা পরিবেশে কোনো ব্যাঘাত ঘটাতে চাই না। ওরা ধাপে ধাপে লড়াই করে নিজেদের যোগ্যতায় এই ফাইনালের মঞ্চ অর্জন করেছে।”
তার বিশ্বাস, ফাইনালের আগে সব মনোযোগ মাঠের ১১ ফুটবলারের ওপরই থাকা উচিত। তাই নিজের উপস্থিতির কারণে অপ্রয়োজনীয় আলোচনা তৈরি হোক, সেটিও চান না তিনি।
ডি মারিয়ার এই সিদ্ধান্তকে পরিণত মানসিকতার পরিচয় হিসেবে দেখছে আর্জেন্টিনার গণমাধ্যম। তাদের মতে, ম্যাচের আগে দলের মনোযোগ ধরে রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিংবদন্তি এই ফুটবলার।
যদিও ফাইনালে তিনি গ্যালারিতে থাকছেন না, তবু দলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি। আর্জেন্টিনা শিবিরের তথ্য অনুযায়ী, লিওনেল মেসি, রদ্রিগো ডি পলসহ দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন ডি মারিয়া। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দূর থেকেই অনুপ্রেরণামূলক বার্তা দিয়ে সতীর্থদের পাশে ছিলেন তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে না যাওয়ার পেছনে তার বর্তমান ক্লাব রোজারিও সেন্ট্রালের ব্যস্ত সূচি ও পেশাদার দায়িত্বও একটি কারণ বলে জানা গেছে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ডি মারিয়া উপস্থিত না থাকলেও তার স্মৃতি এবং বড় বড় ফাইনালে রেখে যাওয়া অবদান আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের অনুপ্রেরণা জোগাবে। তাঁর অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের উত্তরাধিকার নিয়েই স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তেরা।
ভিওডি বাংলা/এমএস








মন্তব্য