টেস্ট-ওয়ানডে সিরিজ খুইয়ে টি-টোয়েন্টিতে জিতল বাংলাদেশ

টেস্ট এবং ওয়েনডে সিরিজে ভরাডুবির পর টি-টোয়েন্টি সিরিজে জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৪ উইকেটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ দল। দারুণ এই জয়ের ফলে প্রথম ম্যাচে হেরে পিছিয়ে পড়ার পরেও ২-১ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলো টাইগাররা। বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত এক ফিফটি হাঁকিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম।
শেষ দিকে চরম নাটকীয়তায় জমে উঠেছিল ম্যাচ। তবে শেখ মেহেদী হাসানের মারা দারুণ এক চারে ২ বল হাতে রেখে জিতেছে টাইগাররা।
রোববার (১৯ জুলাই) বুলাওয়েতে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে। ব্যাটিংয়ে নামা জিম্বাবুয়েকে নিজের প্রথম ওভারেই বড় ধাক্কা দেন টাইগার স্পিনার শেখ মেহেদী হাসান। বরাবরের মত শুরুতেই উইকেট এনে দিয়েছেন মেহেদী। ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানি ৫ বলে ৪ রান করে মেহেদীর শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরে যান। ৬ রানের মাথাতে ভেঙেছে জিম্বাবুয়ের ওপেনিং জুটি।
এরপর টিকে থাকা ওপেনার ব্রায়ান বেনেট এবং তিনে নামা ডিয়ন মেয়ার্স মিলে দলের ইনিংসকে টেনেছেন। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৪০ রান তুলেছে জিম্বাবুয়ে। বেনেট এবং মেয়ার্স দুজনই চলে যান ফিফটির খুব কাছে। তবে বেনেট ফিফটির আগেই বিদায় নেন। ৩৮ বলে ৪৭ রানের ইনিংস খেলে দলের ৭৭ রানের মাথাতে বিদায় নেন ওপেনার বেনেট। তাকে ফিরিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
মেয়ার্স ফিফটি ছুঁয়েছেন। তবে সময়ের সাথে সাথে কিছুটা খোলসবন্দী হয়ে গেছেন। ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে গেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। আরেক প্রান্তে ব্যাটাররা সেভাবে সুবিধা করতে পারছিলেন না। একের পর এক উইকেট হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। ৬ বলে ৩ রান করা অধিনায়ক সিকান্দার রাজাকে বিদায় করেছেন রিশাদ হোসেন। ৭ বলে ৭ রান করা রায়ান বার্লকে ফিরিয়ে দেন আবদুল গাফফার সাকলাইন। ১৯তম ওভারে ক্যাচ মিস করলেও দারুণ এক থ্রোতে ব্র্যাড ইভান্সকে রান আউট করে দেন রিশাদ হোসেন।
শেষ দিকে জিম্বাবুয়ে আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিল না। রানআউটের পরের বলেই ক্লিভ মাদান্দেকে কট বিহাইন্ড করেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। শেষ বলে যদিও বিশাল এক ছক্কা হাঁকিয়েছেন মেয়ার্স। জিম্বাবুয়ের ইনিংসকে শেষ ভাগে টেনেছেন এই মেয়ার্সই।
৫৩ বলে ৭৩ রান করে শেষ ওভারে আউট হয়েছেন মেয়ার্স। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের হয়ে ২ উইকেট শিকার করেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ১টি করে উইকেট নেন শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন এবং আবদুল গাফফার সাকলাইন।
জবাব দিতে নেমে প্রথম ওভারেই ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। ৫ বলে ৪ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরেছেন ওপেনার সাইফ হাসান। শুরু থেকে প্রতি বলেই মারার চেষ্টা করেছেন সাইফ। কাজে আসেনি তার এমন অ্যাপ্রোচ।
এরপর টিকে থাকা ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের সাথে যোগ দিয়েছেন পারভেজ হোসেন ইমন। পাওয়ারপ্লেটা অত ভালো যায়নি বাংলাদেশের। ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৩০ রান তুলেছে টাইগাররা।
সময়ের সাথে সাথে কিছুটা খোলস ছেড়ে বের হয়ে এসেছেন ইমন এবং তানজিদ। সাবলীল ব্যাটিংয়ে রান বের করেছেন। উইকেটের চারপাশে খেলেছেন দারুণ সব শট। ভালো খেলতে থাকা ইমন ২২ বলে ২৪ রান করে থেমেছেন দলের ৫৯ রানের মাথাতে।
এরপর তানজিদের সাথে যোগ দিয়েছেন অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। তানজিদ-হৃদয় এগিয়েছেন কার্যকরী ব্যাটিংয়ে। সুযোগ বুঝে বাউন্ডারি বের করেছেন। সিঙ্গেল-ডাবলসে রানের চাকা সচল রেখেছেন, স্ট্রাইক রোটেট করেছেন ঠিকঠাক। একটু একটু করে জয়ের পথে এগিয়েছে বাংলাদেশ।
১৯ বলে ২৪ রান করে বিদায় নেন হৃদয়। পরে ইয়াসির আলী চৌধুরী নেমে ৯ বলে খেলেছেন ১০ রানের ইনিংস। ক্রিজে আসেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। শেষ ওভারে দরকার ছিল ৫ রান। প্রথম বলে আসে ১ রান। পরের বলে মোসাদ্দেককে ফেরান ব্র্যাড ইভান্স। ৪ বলে দরকার ৪ রান। পরের বলে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে ফিরিয়ে দেন ইভান্স। ৩ বলে দরকার ৪ রান। পরের বল করার সময় ফিল্ডার মুভ করায় ডেড বল ডাকেন আম্পায়ার। পরের বলে চার মেরে দেন শেখ মেহেদী হাসান। বাংলাদেশ তুলে নেয় ৪ উইকেটের দারুণ এক জয়। ম্যাচের সাথে সিরিজটা ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয় বাংলাদেশ দল।
জিম্বাবুয়ের হয়ে ২টি করে উইকেট শিকার করেছেন ব্র্যাড ইভান্স, রিচার্ড এনগারাভা এবং সিকান্দার রাজা।
ভিওডি বাংলা/এফএ








মন্তব্য