{# Dark-theme overrides for the above-the-fold critical surfaces. Inlined so dark users don't flash a light background while the async dark.css is still loading. #}
  • ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
ইরান ভ্রমণে ভারতীয় নাগরিকদের বিশেষ সতর্কতা ডিসেম্বরে চালু হচ্ছে থার্ড টার্মিনাল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭ জুলাইয়ের পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে তারেক রহমানের অ‌ভিনন্দন স্থানীয় নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না: মির্জা ফখরুল যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম নৈশভোজ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে শরিকদের সঙ্গে আলোচনা হবে: মির্জা ফখরুল যেভাবে নির্বাচন ছাড়াই বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম জোট শরিকদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি নাহিদের

বিশ্লেষণ

স্পেনের বিশ্বজয় কেন বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রাপ্য সমাপ্তি ছিল

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ২০ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৭ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই অনেকের মন ফিরে গেছে ২০১০ সালের সেই স্মরণীয় রাতে, যখন প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল 'লা রোহা'।

দুই আসরের মধ্যে মিল যেন অবাক করার মতো। দুইবারই স্পেন পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে নিজেদের দখলদারিত্বভিত্তিক ফুটবল দিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছে। দুইবারই ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল শারীরিক শক্তিনির্ভর একটি দল। দুইবারই অতিরিক্ত সময়ে এসেছে জয়সূচক গোল। এমনকি দুই আসরেই দলটি অনুপ্রাণিত হয়েছে প্রয়াত দুই স্প্যানিশ ব্যক্তিত্বের স্মৃতিতে—২০১০ সালে সাবেক ফুটবলার দানি হারকের স্মৃতি এবং এবার ক্যানসারে মারা যাওয়া ১৩ বছর বয়সী স্পেন সমর্থক মারিয়া কামানিয়োর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে।

ইউরো চ্যাম্পিয়ন দল থেকেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নের বিবর্তন

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন মূলত ২০২৪ ইউরোজয়ী দলেরই পরিণত সংস্করণ। তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগে বড় ধাক্কা খেয়েছিল দলটি। ইনজুরিতে পড়েন দুই তারকা উইঙ্গার লামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামস। ফলে দ্রুতগতির আক্রমণভাগ অনেকটাই ভেঙে পড়ে এবং গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত ড্রও করতে হয়।

কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে তখন বুঝতে পারেন, স্পেনের আসল শক্তি উইং নয়, বরং মাঝমাঠ। তাই তিনি দলকে আবার ঐতিহ্যবাহী 'টিকি-টাকা' ধারায় ফিরিয়ে আনেন। শক্তিশালী রক্ষণভাগ ও বল দখলে রাখার কৌশলই হয়ে ওঠে স্পেনের প্রধান অস্ত্র।

রক্ষণভাগ গড়েছে ইতিহাস

এই কৌশল দারুণ সফল হয়। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করে নতুন বিশ্বকাপের রেকর্ড গড়ে স্পেন।

আয়মেরিক লাপোর্তে, পাও কুবারসি, পেদ্রো পোরো ও মার্ক কুকুরেয়া মিলে গড়ে তোলেন দুর্ভেদ্য রক্ষণ। গোলপোস্টে উনাই সিমোনও ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক।

তবে দলের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন অধিনায়ক রদ্রি। ম্যানচেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডার পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের বল দখলের খেলা নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জিতেছেন ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল।

ফাইনালে একচেটিয়া আধিপত্য

ফাইনালের শুরুতে দুই দলই কিছুটা স্নায়ুচাপে থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় স্পেন।

প্রথমার্ধে বল দখলে ছিল ৬৫ শতাংশ আধিপত্য, দ্বিতীয়ার্ধে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৮ শতাংশে। স্পেনের একের পর এক আক্রমণে চাপে পড়ে আর্জেন্টিনা।

যে আর্জেন্টিনা সাধারণত প্রতিপক্ষকে শারীরিক ফুটবল দিয়ে ছন্দহীন করে তোলে, সেই দলই এবার স্পেনের পাসিং ফুটবলের সামনে বিরক্ত ও অসহায় হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত সময় শুরুর আগে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।

নায়ক ফেরান তোরেস

একজন ফুটবলারের ভাগ্য বদলে যেতে কতক্ষণ লাগে—তার বড় উদাহরণ ফেরান তোরেস।

পুরো টুর্নামেন্টে একের পর এক সুযোগ নষ্ট করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড। এমনকি কেপ ভার্দের ম্যাচের পর একাদশ থেকেও বাদ পড়েন।

কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তিনিই হয়ে ওঠেন স্পেনের ত্রাতা। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে নিকো উইলিয়ামসের হেড থেকে পাওয়া বল জালে জড়িয়ে বিশ্বকাপ জয় নিশ্চিত করেন তোরেস।

লড়াই ছাড়েনি আর্জেন্টিনা

১০ জন নিয়ে খেলেও শেষ পর্যন্ত হাল ছাড়েনি আর্জেন্টিনা। শেষ কয়েক মিনিটে তারা একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিল। এমনকি স্পেনের একটি গোলও বাতিল হয়েছিল মিকেল মেরিনোর ফাউলের সিদ্ধান্তে।

লিওনেল মেসির জন্য রূপকথার মতো বিদায় এবং আর্জেন্টিনার চতুর্থ তারকার স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি। তবে লড়াই, আত্মত্যাগ ও অদম্য মানসিকতার পরিচয় দিয়ে তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

সেরা দলের হাতেই শিরোপা

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে ন্যায্য পরিণতি ছিল স্পেনের শিরোপা জয়। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তারা নিজেদের ফুটবল দর্শনের প্রতি অবিচল থেকেছে—বল দখল, নিখুঁত পাস, কারিগরি দক্ষতা এবং সংগঠিত রক্ষণ।

নিরপেক্ষ দর্শকদের কাছে স্পেনের ফুটবল সব সময় সবচেয়ে রোমাঞ্চকর নাও মনে হতে পারে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে নিজেদের দর্শনকে আরও নিখুঁত করে তোলার যে ধারাবাহিকতা তারা বজায় রেখেছে, তারই পুরস্কার হিসেবে আবারও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে 'লা রোহা'। ২০২৬ বিশ্বকাপ তাই শেষ হয়েছে এমন এক দলের হাতে ট্রফি তুলে দিয়ে, যারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল টুর্নামেন্টের সেরা দল।

সূত্র: সিএনএন

ভিওডি বাংলা/আরআর/আ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ হার, তবু অমলিন মেসি
ছবি: সংগৃহীত
স্পেনের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিয়ে নিজ দলের প্রশংসা করলেন স্কালোনি
ছবি: সংগৃহীত
মেসি নয়, বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় রদ্রি