যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টিনার ফুটবল সভাপতির মোবাইল জব্দ, চলছে তদন্ত
আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া এবং আরও কয়েকজন কর্মকর্তার মোবাইল ফোন জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। স্পেনের কাছে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে হেরে আর্জেন্টিনা দল দেশে ফেরার আগে নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি বিমানবন্দরে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ইনফোবায়ে ও ক্লারিন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এফবিআই এজেন্টদের উপস্থিতিতে এই অভিযান চালানো হয়। এর ফলে আর্জেন্টিনা দলের প্রতিনিধিদল বহনকারী অ্যারোলিনিয়াস আর্জেন্টিনাসের চার্টার ফ্লাইট প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বিত হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এএফএর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চুক্তিগুলোর আর্থিক কাঠামো নিয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে তাপিয়া ও অন্য কর্মকর্তাদের মোবাইল এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে।
এছাড়া ৩০ জুলাই ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্যও তাপিয়াকে তলব করা হয়েছে।
মার্কিন তদন্তকারীরা বিশেষভাবে ট্যুরপ্রডএন্টার নামের একটি ফ্লোরিডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য চেয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়ী হাভিয়ের ফারোনি-র সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং এএফএর স্পনসরশিপ, প্রীতি ম্যাচ ও টেলিভিশন স্বত্বের একচেটিয়া বাণিজ্যিক প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করত।
ক্লারিন-এর দাবি, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের স্পনসরদের কাছ থেকে পাওয়া কয়েক মিলিয়ন ডলার এই প্রতিষ্ঠানের মিয়ামি-ভিত্তিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব আয় এএফএর আর্থিক হিসাবপত্রে যথাযথভাবে দেখানো হয়নি এবং আরও কিছু আর্থিক অনিয়ম ঘটেছে।
মামলাটি পরিচালনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রসিকিউটর প্যাট্রিক গুশু এবং ক্রিস্টোফার টিং।
তদন্তের সূত্রপাত হয় ব্যবসায়ী গিয়ের্মো তোফোনির করা একটি প্রতারণা মামলার মাধ্যমে। তিনি অভিযোগ করেন, ২০৩০ সাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের যে চুক্তি ছিল, সেটি এএফএ একতরফাভাবে বাতিল করে।
ওই মামলার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত থেকে সংগৃহীত নথিপত্রে দাবি করা হয়েছে, ট্যুরপ্রডএন্টার প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যার মধ্যে প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলার প্রকৃত অর্থনৈতিক কার্যক্রম নেই-এমন কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি।
উল্লেখ্য, এসব অভিযোগ বর্তমানে তদন্তাধীন। এখনো কোনো আদালত তাপিয়া, এএফএ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দোষী সাব্যস্ত করেনি।
ভিওডি বাংলা/বিন্দু









মন্তব্য