যশোর শহরের বারান্দীপাড়া মোল্লাপাড়ার আলোচিত ব্যক্তি ও একাধিক মামলার আসামি জিতু (৩৫) দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে নড়াইল এলাকায় পৌঁছালে তার মৃত্যু হয় বলে স্বজনরা জানান।
বুধবার (২২ জুলাই) রাত ১১টার দিকে শহরের বারান্দীপাড়া ফুলতলা মোড় এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত জিতু যশোর শহরের বারান্দীপাড়া মোল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে জিতু ফুলতলা মোড় এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় অজ্ঞাতনামা একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জিতুকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়। তবে ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই নড়াইল এলাকায় তার মৃত্যু হয়।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাসুম রেজা জানান, জিতুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। এ কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, মৃত্যুর পর মরদেহ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে আনা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সুমন (ওরফে চোর সুমন)নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্যও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কোতোয়ালি থানার তদন্ত পরিদর্শক কাজী বাবুল বলেন, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ আহত জিতুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে তার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সুমন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, জিতুর সঙ্গে এলাকার কয়েকজনের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের ভূমিকা তদন্ত শেষ হওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জিতু গত কয়েক বছরে একাধিক মামলায় কারাভোগ করেছিলেন। অস্ত্র মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধে তিনি আগে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন বলে এলাকায় প্রচলিত রয়েছে। সম্প্রতি একটি মোটরসাইকেল ছিনতাই মামলায় কারাভোগ শেষে তিনি মুক্তি পান। এরপর থেকেই এলাকায় তার সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধ চলছিল বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। তবে এসব বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভিওডি বাংলা/রোহিত হোসেন/জা









মন্তব্য