পদত্যাগের দিন দুপুরে যে খাবার খেয়েছিলেন সাহাবুদ্দিন
দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।
এদিন বিকেল ৫টা ১ মিনিটে স্পিকার তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন।
পদত্যাগের দিন রাষ্ট্রপতির দুপুরের খাবারের মেন্যুতে ছিল ভাত, ডাল, মাছ, মাংস, সবজি এবং শাক।
বঙ্গভবনের রান্নাঘরের এক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পরিবারের ১০ থেকে ১২ জন সদস্যের জন্য এসব খাবার প্রস্তুত করা হয়েছিল।
শনিবার (২৫ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বঙ্গভবনের প্রধান দরজা দিয়ে তিনটি প্রাইভেটকার প্রবেশ করে। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি জিপ বঙ্গভবন থেকে বের হতে দেখা যায়।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বঙ্গভবনের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধান অনুযায়ী তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই তিনি পদত্যাগ করেন।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেই অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে রয়েছেন। একই সঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
এদিকে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠাতব্য সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
প্রায় তিন বছরের দায়িত্বকালে মো. সাহাবুদ্দিন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম ঘটনাবহুল সময়ের সাক্ষী ছিলেন। তার মেয়াদকালেই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বকাল শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই সময়ে তিনি তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান, যা দেশের রাষ্ট্রপতির ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা।
ভিওডি বাংলা/আর









মন্তব্য