• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo
শিরোনাম
হেপাটাইটিসমুক্ত দেশ গড়তে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাধ্যতামূলক অবসরে ৩২ জেলা প্রশাসক আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলা হবে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা: প্রতিমন্ত্রী টুকু সৌদির তেল স্থাপনায় হুথিদের ড্রোন হামলার দাবি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ উন্নয়ন-সুশাসনে সবাইকে পাশে চাইলেন সারিয়াকান্দির নবাগত ইউএনও দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিলেন মির্জা ফখরুল লুলাকে ‘চোর’ বললেন মিলেই, রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করল ব্রাজিল হাসপাতালের শৌচাগারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, সাময়িক বরখাস্ত হলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে শেষ ধাপে সরকার

নির্বাচন ঘনিয়ে এলে অভ্যন্তরীণ সংকট বাড়বে

বিএনপিতে বাড়ছে দলীয় কোন্দল!


প্রকাশ:  ৫ মে ২০২৫, ০৬:৪৮ পি.এম.
শেয়ার করুন 0
বিএনপিতে বাড়ছে দলীয় কোন্দল!

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
পাঁচই অগাস্ট পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অন্তর্কোন্দল দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে বিএনপির তৃণমূলে। সংঘাত- সহিংসতার অভিযোগে পত্রপত্রিকার শিরোনামে উঠে আসছে দলটির নেতাকর্মীদের নাম।

বিবদমান বিভিন্ন গ্রুপের সংঘর্ষে কেবল এপ্রিল মাসেই দলটির অন্তত সাতজন নেতাকর্মীর মৃত্যুর খবর এসেছে গণমাধ্যমে। আর শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে অর্থাৎ গত আগস্ট থেকে হিসাব করলে এই সংখ্যাটা অর্ধশতাধিক।

সংঘাত সহিংসতার বিষয়টি স্বীকার করছেন বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও। তাদের দাবি, ব্যবস্থা নেয়ার কারণেই সহিংসতার মাত্রা "স্তিমিত হয়ে এসেছে"।

তবে বিএনপির পক্ষ থেকে সহিংসতার মাত্রা কমার দাবি করা হলেও পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দলটির স্থানীয় পর্যায়ের সহিংসতা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এগুলোর পেছনে অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং আধিপত্য সৃষ্টির মতো বিষয় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে। একইসঙ্গে নির্বাচন এগিয়ে এলে এই ধরনের ঘটনা আরও বাড়বে বলেও মনে করছেন তারা।

গত পাঁচই এপ্রিল রংপুরের বদরগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে মারা যান দলটির কর্মী লাভলু মিয়া। উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও ব্যবসায়ীকে মারধরের প্রতিবাদে ডাকা মানববন্ধনের সময় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে মারা যান তিনি। এই ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও একশো থেকে দেড়শো জনের নামে মামলা দায়ের করেন নিহতের ছেলে মো. রায়হান কবির। তার দাবি, এরইমধ্যে "টাকার জোরে আগাম জামিন নিয়েছে" অভিযুক্তরা।

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা বিএনপির একজন নিবেদিত কর্মী ছিলেন। জ্বালাও-পোড়াওসহ একাধিক মামলায় জেলে গেছেন। গুলিও খেয়েছি আমরা বাপ-ছেলে। অথচ আজ বিএনপির নেতারা নীরব।"

"এই যদি হয় রাজনীতি, তাহলে দেশের জনগণের কাছে অনুরোধ কেউ যেন রাজনীতি না করে। কারণ দলের জন্য গেলাম, গুলি খাইলাম, অথচ দলের কেউ এগিয়ে এসে সহায়তা করলো না।"

অভিযুক্তদের আগাম জামিন পাওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মি. কবির, যদিও এই ঘটনার পর ছয় বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার করে দলটি।

এই ঘটনার এক সপ্তাহ না যেতেই গত ১১ই এপ্রিল গাজীপুরের ধীরাশ্রম এলাকায় কৃষকদল নেতা রাকিব মোল্লাকে নিজ বাড়ির খুব কাছেই কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তারের জেরে খুন হন তিনি।

পরিবারের অভিযোগ, খুনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কিংবা দলটির ছত্রছায়ায় রয়েছে।

নিহত রাকিবের মা রুবিনা আক্তার সীমা বিবিসি বাংলাকে বলেন, বিএনপির যে জায়গায় রাকিব পৌঁছাতে পারতো, বাকিরা সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারবে না বলেই তাকে খুন করা হয়।

"বিএনপির কিছু লোকজনও আছে, চায় না যে আমার মামলাটা হোক। এরা বলতাছে, বিএনপির লোক থাকলে মামলা হালকা হয়ে যাবে। তাইলে কি বিএনপির লোক অপরাধ করে না? দলের জন্যে কি তাইলে অপরাধ করলে মাফ?" বলেন তিনি।

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে, জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কেবল বিএনপির দলীয় কোন্দলেই মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের। একই সংস্থার হিসাবে, গত অগাস্ট থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত আট মাসে ৭৬ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে কেবল বিএনপির অভ্যন্তরীণ সহিংসতায় মারা গেছেন ৫৮ জন।

এ নিয়ে প্রশ্ন করলে অভ্যন্তরীণ বিবাদের বিষয়টি শিকার করে নেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ভিওডি বাংলাকে তিনি বলেন, "সংঘাত-সহিংসতা হচ্ছে না, সেটা আমরা বলবো না। কিন্তু দেখতে হবে এটাকে প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে কিনা। মোটেই তা হচ্ছে না।"

"জড়িতদের বহিষ্কার করা হয়েছে, পদ স্থগিত করা হয়েছে, শোকজ করা হচ্ছে এবং সেখানে জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূলে – কেউ এখান থেকে বাদ যাচ্ছে না", বলেন তিনি।

এই ধরনের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ প্রমাণ-সাপেক্ষে জেলা বা থানা পর্যায়ের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি করা হয়েছে বলেও জানান এই বিএনপি নেতা। এভাবে তিন থেকে চার হাজার নেতাকর্মীকে ব্যবস্থার আওতায় আনার কথা জানান তিনি।

একইসঙ্গে বিষয়গুলোকে দীর্ঘসময় রাজনৈতিক কারণে হয়রানির শিকার হবার প্রতিক্রিয়া হিসেবেও মনে করেন রিজভী।

"এত বড় রাজনৈতিক দল প্রায় ১৫-১৬ বছর রাজনৈতিক নির্যাতন নিপীড়ন সহ্য করেছে, এলাকা থেকে উচ্ছেদ করেছে, এত বছর পর ফিরে গেছে। সেখানে স্বাভাবিকভাবেই বেশ কিছু প্রতিক্রিয়া হয়েছে।"

"কিন্তু আমাদের এই ব্যবস্থাগুলো নেয়ার কারণে মাত্রাটা অনেক কম এবং ধীরে ধীরে অনেক কমে এসেছে। পাঁচ তারিখের পরের তুলনায় অনেকখানি স্তিমিত হয়ে এসেছে," বলেন তিনি।

দীর্ঘ সময় ক্ষমতা থেকে দূরে থাকা, নেতৃত্ব সংকটসহ কয়েকটি ফ্যাক্টর বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে বলে মত বিশ্লেষকদের। আর নির্বাচন ঘনিয়ে এলে দলটির অভ্যন্তরীণ সংকট আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ ভিওডি বাংলাকে  বলেন, "১৭/১৮ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকে বিএনপি তো ক্ষমতাচর্চা অনেকটাই ভুলে গেছে বলা যায়। এদিকে আবার তাদের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা চেয়ারপারসন নিষ্ক্রিয়, আর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন দেশছাড়া।"

এই বিশ্লেষকের মতে, দলীয় বন্ধন টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা রাখেন চেয়ারপারসন। গ্রেফতার হওয়ার আগে বেগম জিয়া যতদিন সক্রিয় ছিলেন, ততদিন দলের মধ্যে সমস্যা বোঝা যায়নি। কিন্তু তারপর থেকেই দলটি অনেক এলোমেলো হয়ে গেছে।

তাদের বাইরে যারা নেতৃত্বে আছেন তাদের মধ্যেও বনিবনার অভাব আছে বলে মনে করেন মহিউদ্দিন আহমদ। বিশেষ করে বিভিন্ন ইস্যুতে আলাপে তাদের মধ্যকার মতপার্থক্যও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা থেকে বোঝা যায় দলের সংহতিতে টান পড়েছে। ফলে এর প্রভাব পড়বে নির্বাচনেও।

"সামনে যদি নির্বাচন আসে, তখন এই নির্বাচন নিয়েও কিন্তু তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে চলে যাবে। কারণ প্রত্যেকেরই নিজস্ব বলয় আছে। অনুগত লোকেরা আছে। তারা সবাই প্রার্থী হতে চাইবে।"

"এমনিতেই তৃণমূলে নানা ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। সিনিয়র নেতাদের প্রশ্রয়-আশ্রয় ছাড়া তৃণমূলে অরাজকতা যারা করে বেড়াচ্ছে, এটা তো সম্ভব না", বলেন এই বিশ্লেষক।

ফলে সামনের দিনগুলোতে "ঝামেলা" বাড়বে বলেই মনে করেন মহিউদ্দিন আহমদ।

অনেকটা একই মত আরেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাজী মারুফুল ইসলামের। তার মতে, দলের ভেতরকার এই "ঘটনাগুলো ঘটার পেছনে একটা অর্থনৈতিক স্বার্থ আছে, নগদ লাভের ব্যাপার আছে"।

নির্বাচন সামনে রেখে আধিপত্য সৃষ্টিও এখানে একটি ফ্যাক্টর বলে মনে করেছেন এই বিশ্লেষক। অর্থাৎ সামনে যে নির্বাচন আছে, সেটা স্থানীয় সরকার, জাতীয় এবং একইসাথে দলের ভেতরে যে নিয়ন্ত্রণ, এই নিয়ন্ত্রণগুলো প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আধিপত্যের একটা ব্যাপার আছে," বলেন তিনি।

অধ্যাপক ইসলাম বলছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে জোর করে দখলের প্রবণতা আছে, যেটা অনেক সময় সাধারণ মানুষ সমীহ করে চলে। কোনো দল বা কোনো ব্যক্তি যদি সহিংস হয়ে ওঠে, সেটা অগ্রহণযোগ্য এবং বেআইনি হওয়া সত্ত্বেও তার একটা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা আছে," বলেন এই বিশ্লেষক।

"ফলে যারা অনেকদিন ধরে রাজনীতির মধ্যে ছিলেন, তাদের দখল এবং অর্থনৈতিক লাভ একইসাথে সম্ভাব্য যে সামনের সময় তার ওপরে নিয়ন্ত্রণের জন্য এই সহিংসতাগুলো ঘটছে," বলেন তিনি।

ভিওডি বাংলা/ এমপি/এমএইচ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহিত
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে দায়িত্ব কার, কী বলছে সংবিধান
ছবি: সংগৃহীত
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: যে দুপুরে থেমে গিয়েছিল অসংখ্য ক্ষুদে স্বপ্ন
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ কেন নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে
যেসব কারণে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত