• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় সংযত বিএনপি

  আহসান হাবিব
প্রকাশ:  ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৪ পি.এম.
শেয়ার করুন 0
ছবি: ভিওডি বাংলা
ছবি: ভিওডি বাংলা

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হলেও বিএনপি এ বিষয়ে এখনই কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে না। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রয়োজন হলে দলীয় অবস্থান জানানো হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ঘটনায় দল থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে দলের অবস্থান জানানো হবে।

তবে দলের মধ্যম সারির কয়েকজন নেতার বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, তারা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগকে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন। যদিও দলীয় সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছেন শীর্ষ নেতারা।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিমিত ও দায়িত্বশীল অবস্থান বজায় রাখাই দলের কৌশল। তাই তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বিএনপি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার বলেন, “রাষ্ট্রপতি পদ ত্যাগ করেছেন, এটা সম্মানের। এটা ভালো হয়েছে। নতুন রাষ্ট্রপতি আসবেন। আজকাল তো মানুষ পদত্যাগ করতে চায় না। ১৭ বছর ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা লাগছে।”

তিনি বলেন, “একটি বিষয় খুবই ইন্টারেস্টিং এই রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্ট সরকার, অন্তর্বর্তী (ইন্টারিম) সরকার এবং বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার তিন সরকারকেই শপথ পড়িয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন নজির খুব কমই রয়েছে। তাঁর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো।”

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ভিওডি বাংলাকে বলেন, “রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। তাঁর পদত্যাগের ফলে যে সাংবিধানিক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা বর্তমান জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে পূরণ করেছেন। এটি সম্পূর্ণ সংবিধানসম্মত একটি প্রক্রিয়া।

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার পরই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। সে সময় সংসদের স্পিকারও পদত্যাগ করেছিলেন। ফলে এক ধরনের সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ ও স্পিকার থাকায় সেই শূন্যতা আর নেই। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ এবং স্পিকারের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতির সাংবিধানিক মীমাংসা হয়েছে।’”

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে চাননি বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

দলীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কে না জড়িয়ে বিএনপি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। একই সঙ্গে দলের ভেতরে অনেকেই মনে করছেন, একই রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার, অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান সরকারের শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁর পদত্যাগ সাম্প্রতিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।

ভিওডি বাংলা/এএইচএস/এমএস


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহিত
ভারতের তরুণদের আন্দোলন কোথায় গিয়ে থামবে?
গাজী নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
চাকরির টোপ, শত কোটির প্রলোভন- নজরুলকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ
ছবি: সংগৃহিত
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে দায়িত্ব কার, কী বলছে সংবিধান