দক্ষিণাঞ্চলের ৯ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

দুই দিনের ব্যবধানে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর পানি আরও বেড়েছে। বর্তমানে কীর্তনখোলা, সুগন্ধা, বিষখালী, তেঁতুলিয়া, মেঘনা-সুরমা, বলেশ্বর, শ্রীমন্ত, কঁচাসহ ৯টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে বুধবার পর্যন্ত ৮টি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছিল।
নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠির উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এমনকি বরিশাল নগরীর সদর রোডসহ আশপাশের এলাকাতেও নদীর পানি ঢুকে পড়েছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানিবিজ্ঞান বিভাগ জানিয়েছে, এক দিনের ব্যবধানে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার প্রায় এক মিটার পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে নদীর পানি উপচে গ্রামাঞ্চলে প্রবেশ করছে। শুক্রবার জোয়ারের সময় নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, বরিশাল নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী পলাশপুর, ধান গবেষণা সড়ক, কালিজিরার জাগুয়া, সদর রোড, আগরপুর রোড, পুলিশ লাইন সড়কসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া সদর উপজেলার চরবাড়িয়া, শায়েস্তাবাদ, চন্দ্রমোহন ও চরকাউয়া ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী এলাকাতেও পানি প্রবেশ করেছে। অনেক ঘরবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানিবিজ্ঞান বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী তাইজুল ইসলাম জানান, দক্ষিণাঞ্চলের ১২টি নদীর ১৬টি পয়েন্টে নিয়মিত পানি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার থেকে জোয়ারের সময় নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে শুরু করেছে।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এছাড়া ঝালকাঠির বিষখালী-সুগন্ধা, ভোলার তেঁতুলিয়া, মেঘনা-সুরমা, পিরোজপুরের বলেশ্বর, বরগুনার বিষখালী, পটুয়াখালীর শ্রীমন্ত ও কঁচা নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে বরিশাল অঞ্চলে বড় ধরনের বন্যার প্রভাব দেখা না গেলেও অমাবস্যা ও বাতাসের গতি বৃদ্ধির কারণে নদীর পানি বাড়ছে। আগামী দুই দিনে অমাবস্যার প্রভাবে পানি আরও বাড়তে পারে।
এদিকে বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ রয়েছে। এর প্রভাবে মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হচ্ছে। লঘুচাপটি শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে নদীর পানি আরও কয়েক ফুট বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভিওডি বাংলা/আ








মন্তব্য