আগৈলঝাড়া থানায় হামলা
৩ শতাধিকের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ১৮

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় গ্রেফতারকৃত এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযানের মুখে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, হামলার পর থেকেই থানা ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিওচিত্র ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। রাতভর অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বরিশালের পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "থানায় হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।"
পুলিশ জানায়, গত বুধবার (৮ জুলাই) নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চুরি ও মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে একটি চুরির মামলায় গ্রেফতার করা হয়। থানা হাজতে থাকা অবস্থায় তিনি নিজের মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে পুলিশের দাবি। পরে রাত ১১টার দিকে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরদিন বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শতাধিক ব্যক্তি মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায়। হামলার সময় ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করা হয় এবং থানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
এ ঘটনায় পুলিশের ছয় সদস্যসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্য পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসান। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
মামলার বাদী ওমর ফারুক জানান, মামলার পর পরিচালিত অভিযানে রিয়াজ ফকিরের বাবা সিদ্দিক ফকির, বোন শারমিন আক্তার, গিয়াস ফকির, সবুজ ফকির, মান্নান ফকির, রিফাত ফকির, নাইম ফকির, হাবিবুর রহমান, রাজু হাওলাদার, তাহমিনা বেগম, মনোয়ারা বেগম, আসমা আক্তার, মমতাজ বেগম, ঝুমুর বেগম, নাজমা আক্তার ও তানজিলা আক্তারসহ এজাহারভুক্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের শুক্রবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে রিয়াজ ফকিরের পরিবারের দাবি, পুলিশি নির্যাতনের কারণেই তিনি আহত হয়েছেন। তবে পুলিশ এ অভিযোগ নাকচ করে জানিয়েছে, রিয়াজ ফকির বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ভিওডি বাংলা/শিপা/এমএস








মন্তব্য