১৫ বছরেও চাকরি ফেরেনি, পুনর্বহালের দাবিতে ১,৫২২ পুলিশ সদস্য
বিগত ১৫ বছরে বিভিন্ন কারণে চাকরিচ্যুত হওয়া ১ হাজার ৫২২ পুলিশ সদস্যের পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাসহ নানা কারণে চাকরি হারাতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পুনর্বহাল না হওয়ায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
পুনর্বহালের দাবিতে আগামী ২৭ জুলাই রাজধানীর গুলশানে মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে তারা প্রধানমন্ত্রীর মানবিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য ইকবাল হোসেন বলেন, চাকরি হারানোর পর অনেকেই চরম অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। কেউ রাইড শেয়ারিং করে জীবিকা নির্বাহ করছেন, কেউ কৃষিকাজ বা দিনমজুরের কাজ করছেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি তার মতোই একজন চাকরিচ্যুত সদস্য রাইড শেয়ারিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় দুই পা হারিয়েছেন। সরকারের কাছে মানবিক বিবেচনায় পুনর্বহালের আবেদন জানান তিনি।
চাকরিচ্যুত আরেক কর্মকর্তা মামুন বলেন, ১ হাজার ৫২২টি পরিবারের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। অসুস্থ বাবা-মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতেও অনেক পরিবার হিমশিম খাচ্ছে। দীর্ঘদিন বেকার থাকায় এসব পরিবার সামাজিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিগত সরকারের সময়ে কোনো সুষ্ঠু বিভাগীয় তদন্ত ছাড়াই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ সদর দপ্তর আবেদনগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করলেও আইনি জটিলতার কারণে অনেকের পুনর্বহাল এখনো সম্ভব হয়নি।
তাদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মানবিক বিবেচনায় পুনর্বহালের নির্দেশ দিলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুলিশ সদর দপ্তর একজন ডিআইজির নেতৃত্বে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেছিল। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল বা বিভাগীয় আপিলে জয়ী সদস্যদের পুনর্বহালের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে যারা কোনো আপিল করেননি বা যাদের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন কিংবা ফৌজদারি মামলা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে আইনগত কারণে পুনর্বহালের সুযোগ সীমিত।
এর আগে পুনর্বহালের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন চাকরিচ্যুত সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শাহবাগ থানায় তাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছিল।
তথ্য অনুযায়ী, চাকরিচ্যুতদের মধ্যে ১ হাজার ২৫ জন কনস্টেবল, ৭৯ জন নায়েক, ১৮০ জন এএসআই/এটিএসআই, ২০০ জন এসআই/সার্জেন্ট/টিএসআই, ১০ জন ইন্সপেক্টর এবং ২৮ জন নন-পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
ভিওডি বাংলা/এমএস









মন্তব্য