• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

অভিমান ভুলে হ্যারির সন্তানদের সঙ্গে দেখা করলেন রাজা চার্লস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৪ এ.এম.
দীর্ঘদিনের পারিবারিক টানাপোড়েনের পর রাজা চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রিন্স হ্যারি, মেগান মার্কেল ও তাদের দুই সন্তান। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের পারিবারিক টানাপোড়েনের পর রাজা চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রিন্স হ্যারি, মেগান মার্কেল ও তাদের দুই সন্তান। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের পারিবারিক টানাপোড়েন ও সম্পর্কের অবনতির পর অবশেষে ব্রিটিশ রাজপরিবারে মিলনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। কয়েক বছর ধরে চলা দূরত্ব ভুলে ছোট ছেলে প্রিন্স হ্যারি ও তার পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সময় কাটিয়েছেন ব্রিটেনের রাজা চার্লস। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) পশ্চিম ইংল্যান্ডে অবস্থিত রাজপরিবারের ব্যক্তিগত হাইগ্রোভ এস্টেটে এই পারিবারিক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

রাজপ্রাসাদের ঘনিষ্ঠ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই বৈঠকে রাজা চার্লস ও রানী ক্যামিলার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রিন্স হ্যারি, তার স্ত্রী মেগান মার্কেল এবং তাদের দুই সন্তান আর্চি ও লিলিবেট। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২২ সালের পর এই প্রথমবার নাতি-নাতনির সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ পান রাজা চার্লস।

২০২০ সালে রাজপরিবারের দায়িত্বশীল সদস্যের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন হ্যারি ও মেগান। এরপর থেকেই রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ক্রমেই শীতল হয়ে পড়ে। মাঝে কয়েকবার হ্যারি যুক্তরাজ্যে গেলেও সন্তানদের সঙ্গে রাজা চার্লসের সাক্ষাৎ হয়নি। ফলে এবারের এই পুনর্মিলনীকে রাজপরিবারের সাম্প্রতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রাসাদের পক্ষ থেকে এই সাক্ষাৎকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পারিবারিক আয়োজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে বৈঠকটি নিয়ে কোনো ছবি, ভিডিও কিংবা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজপরিবারের গোপনীয়তা রক্ষার অংশ হিসেবে পুরো আয়োজন গণমাধ্যমের দৃষ্টি থেকে দূরে রাখা হয়।

জানা গেছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর বাবা ও ছেলের মধ্যে এটিই প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ। দীর্ঘ সময় ধরে দূরত্ব বজায় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে পাঁচ দিনের একটি দাতব্য কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেশে ফেরেন প্রিন্স হ্যারি। একই সঙ্গে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে করা একটি মামলার রায়ের শুনানিতেও অংশ নেন তিনি। এই সফরকে ঘিরেই রাজা চার্লসের সঙ্গে তার সাক্ষাতের সুযোগ তৈরি হয়।

তবে এই সফরের আগে নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং কোথায় তিনি থাকবেন-এসব বিষয় নিয়ে রাজপরিবার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিরোধ ছিল হ্যারির। এর আগে তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, সন্তানদের আরও আগে যুক্তরাজ্যে আনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

চলতি সপ্তাহটি ব্যক্তিগত ও আইনি দিক থেকেও প্রিন্স হ্যারির জন্য খুব একটা সুখকর ছিল না। ব্রিটিশ সংবাদপত্র ডেইলি মেইল-এর প্রকাশকের বিরুদ্ধে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে করা বহুল আলোচিত একটি মামলায় তিনি আদালতে পরাজিত হয়েছেন। এই আইনি লড়াই নিয়ে অতীতে রাজা চার্লস এটিকে ‘আত্মঘাতী অভিযান’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন বলে বিভিন্ন ব্রিটিশ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

অন্যদিকে, বর্তমানে ৭৭ বছর বয়সী রাজা চার্লস ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি সামনে আসার পর থেকেই বাবা-ছেলের সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। গত বছর দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হ্যারি বলেছিলেন, বাবার সঙ্গে কতদিন সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন, তা তিনি জানেন না। তাই পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইচ্ছা তার রয়েছে।

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগ্রহীত
টাইফুন বাভি’র আশঙ্কায় তাইওয়ানে হাজারো মানুষকে স্থানান্তর
মরক্কোর হারে লন্ডনে বিশৃঙ্খলা, পুলিশ-সমর্থক সংঘর্ষ
মরক্কোর হারে লন্ডনে বিশৃঙ্খলা, পুলিশ-সমর্থক সংঘর্ষ
খামেনিকে দাফনের পর ইরানে ৭ বিস্ফোরণ
খামেনিকে দাফনের পর ইরানে ৭ বিস্ফোরণ