• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

লণ্ডনে সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরলেন যোগাযোগমন্ত্রী

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:২২ পি.এম.
লণ্ডনে সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরলেন নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
ছবি: সংগৃহীত

লণ্ডনে সামুদ্রিক দায়বদ্ধতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন ‘মেরিটাইম লায়াবিলিটি কনভেনশন’ এ যোগদানের মাধ্যমে সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং টেকসই সামুদ্রিক বাণিজ্য নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশের যেসব গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা তুলে ধরেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মাননীয় মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সোমবার (৬ জুলাই) লন্ডনে অবস্থিত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা আইএমও’র সদর দপ্তরে সংস্থার মহাসচিব আরসেনিও ডোমিঙ্গেজ’র কাছে  আনুষ্ঠানিকভাবে কনভেনশনে যোগদানের দলিল হস্তান্তর করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ড. এম. নজরুল ইসলাম এবং  নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী।

এই ঐতিহাসিক উদ্যোগ দেশের সামুদ্রিক আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান ও সর্বোত্তম চর্চার সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে।

নিরাপদ নৌপরিবহন নিশ্চিতকরণ, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দায়িত্বশীল সামুদ্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সরকারের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই কনভেনশনসমূহে যোগদান করা হলো।

বাংলাদেশ  কর্তৃক অনুসমর্থনকৃত তিনটি কনভেনশন সমূহ হলো- আন্তর্জাতিক তেল দূষণজনিত ক্ষতির জন্য  দায়বদ্ধতা বিষয়ক প্রোটোকল ১৯৯২, বাঙ্কার তেল দূষণজনিত ক্ষতির জন্য  দায়বদ্ধতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন ২০০১, এবং নাইরোবি আন্তর্জাতিক রেক অপসারণ কনভেনশন, ২০০৭।

প্রতিদিন শত শত জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে বা দেশের বন্দরসমূহে আগমন করে। এই নৌযান চলাচলের সঙ্গে তেল নিঃসরণ, বাঙ্কার জ্বালানি দূষণ এবং জাহাজডুবির মতো ঝুঁকিও যুক্ত থাকে, যা নৌচলাচল ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

এসব কনভেনশনের মাধ্যমে দুর্ঘটনার দায়ভার নির্ধারণ এবং বাধ্যতামূলক বীমা নিশ্চিত করবে। এর ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে  দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর না করে একটি নিশ্চিত আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পাওয়া সম্ভব হবে।

এই অনুসমর্থন দেশের জন্য অর্থনৈতিক সফলতা বয়ে আনবে। বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে আর বিদেশি নৌ প্রশাসনের কাছ থেকে কনভেনশন সনদ সংগ্রহ করতে হবে না। ফলে সময়, এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। একইসঙ্গে এসব কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা আন্তর্জাতিক চার্টারার, বীমা প্রতিষ্ঠান ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে। বাণিজ্যিক বিলম্ব এবং বিদেশি বন্দরসমূহে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত পরিদর্শন হ্রাস পাবে।

ইতোমধ্যে বিশ্বের শতাধিক দেশ এসব কনভেনশনের পক্ষভুক্ত। বাংলাদেশের অনুসমর্থনের ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অবকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যতা অর্জন করল।

ক্রমবর্ধমান জাহাজ চলাচল, বন্দর কার্যক্রম ও উপকূলীয় উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত একটি দায়িত্বশীল সামুদ্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করবে এবং আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

প্রসঙ্গত, সামুদ্রিক দায়বদ্ধতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন হলো এমন আন্তর্জাতিক চুক্তি বা চুক্তিসমূহ- যা সমুদ্রপথে জাহাজ পরিচালনা, দুর্ঘটনা, দূষণ, যাত্রী বা পণ্যের ক্ষয়ক্ষতি এবং এসবের জন্য কার দায় কতটুকু হবে ও কীভাবে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে—সেসব বিষয়ের আইনি কাঠামো নির্ধারণ করে।

এসব কনভেনশনের মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনে অভিন্ন আইন প্রতিষ্ঠা, ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষা করা।

ভিওডি বাংলা/এফএ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: পিএমও
ভেজালবিরোধী অভিযানে গতি আনতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন
ফাইল ছবি
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতিতে ইসি
ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানিমন্ত্রী বিদ্যুৎ খাতে ৫৬ হাজার কোটি টাকা দেনা রেখে গেছে হাসিনা সরকার