• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo
শিরোনাম
হেপাটাইটিসমুক্ত দেশ গড়তে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাধ্যতামূলক অবসরে ৩২ জেলা প্রশাসক আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলা হবে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা: প্রতিমন্ত্রী টুকু সৌদির তেল স্থাপনায় হুথিদের ড্রোন হামলার দাবি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ উন্নয়ন-সুশাসনে সবাইকে পাশে চাইলেন সারিয়াকান্দির নবাগত ইউএনও দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিলেন মির্জা ফখরুল লুলাকে ‘চোর’ বললেন মিলেই, রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করল ব্রাজিল হাসপাতালের শৌচাগারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, সাময়িক বরখাস্ত হলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে শেষ ধাপে সরকার

আইএমএফের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় নবম পে স্কেল

  নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ:  ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৬ এ.এম.
শেয়ার করুন 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না সরকার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার ফলাফল এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগামী অক্টোবরে আইএমএফের সঙ্গে বৈঠকের পর বিষয়টি নিয়ে সরকারের অবস্থান আরও স্পষ্ট হতে পারে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আদায়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না থাকা এবং সরকারি ব্যয়ের চাপ-এই তিনটি বিষয় বর্তমানে সরকারের সবচেয়ে বড় বিবেচ্য হয়ে উঠেছে। ফলে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আগে আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রাজস্ব আহরণ এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। একই সময়ে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বিভিন্ন ভর্তুকি এবং কৃষি সহায়তাসহ সরকারের ব্যয়ও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এ বাস্তবতায় নতুন পে স্কেল চালু হলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে আইএমএফ।

এ কারণেই সংস্থাটি অন্তত দুই বছর নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে সতর্কভাবে এগোনোর ইঙ্গিত মিলেছে।

গত ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে রাজস্ব আদায়, সরকারি ব্যয় এবং নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থের বিষয়টি তুলে ধরেন। পরে প্রধানমন্ত্রী পুরো প্রস্তাব আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজার, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকেও বিবেচনায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভার ফাঁকে বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

ওই বৈঠকে সরকারি ব্যয়, বিশেষ করে বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয়ে আইএমএফের চূড়ান্ত অবস্থান জানা যেতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরকারী আইএমএফ প্রতিনিধিদলও অর্থ বিভাগের সঙ্গে বেতন ও ভাতা বাবদ সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে আলোচনা করেছে।

তাদের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বর্তমান রাজস্ব সক্ষমতা বড় পরিসরে সরকারি বেতন বৃদ্ধি বহনের জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী নয়।

সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, একবারে পুরো বেতন বৃদ্ধি কার্যকর করার পরিবর্তে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিকল্পও বিবেচনায় রয়েছে। এতে সরকারি ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অক্টোবরে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনার আগেই এ বিষয়ে একটি কৌশলগত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে।

জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিশনের সুপারিশে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা, যাতায়াত ভাতা সংশোধন এবং অন্যান্য ভাতা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবও রয়েছে।

তবে এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে কমিশনের হিসাব বলছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। এ লক্ষ্যে জনপ্রশাসন খাতে অতিরিক্ত ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এর মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি চাকরিজীবী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের সম্ভাব্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ২০১৫ সালের পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন পুনর্নির্ধারণ হয়নি। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কারণে তাদের প্রকৃত আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে নতুন পে স্কেলের যৌক্তিকতা রয়েছে।

তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছেন, রাজস্ব আহরণে বড় ধরনের উন্নতি ছাড়া নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করলে সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়তে পারে। এতে বাজেট ঘাটতি বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে শিশু হত্যা ও যৌন নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেছে উন্নয়ন সংস্থা ‘শিশুরাই সব’-এর মিডিয়া মনিটরিং প্রতিবেদন।  ছবি: সংগৃহীত
ছয় মাসে ৮৬ শিশু হত্যা, যৌন নির্যাতনের শিকার ৩৩৬
ছবি: সংগৃহীত
গুমের নতুন আইনের খসড়া প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত
সেনা হেফাজতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ