অঙ্গদান মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগেই একটি টেকসই অঙ্গদান ও কিডনি প্রতিস্থাপন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। অঙ্গদান মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত, যা বহু মরণাপন্ন রোগের জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করে।
শনিবার (২৭ জুন) মিরপুরে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মৃতদেহ থেকে অঙ্গদান ও কিডনি প্রতিস্থাপন কার্যক্রমকে আরো সুসংগঠিত ও সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
তিনি বলেন, মৃত রোগীর কিডনি ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত তাজা থাকে এবং কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীর জীবন রক্ষা করতে পারে। এজন্য জনগণের মাঝে এ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। দক্ষ ট্রান্সপ্লান্ট কো-অর্ডিনেটর তৈরির মাধ্যমে দেশে মৃতদেহ থেকে অঙ্গদান ও অঙ্গ প্রতিস্থাপন কার্যক্রমের প্রসারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।
কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র কনসালটেন্ট অধ্যাপক (নেফ্রোলজি) হারুন-উর- রশিদের সভাপতিত্বে রাফায়েল ইন্টারন্যাশনাল ও ফাউন্ডেশনের সভাপতি, এশিয়ান সোসাইটি অফ ট্রান্সপ্লান্টেশনের মহাসচিব ন্যাশনাল মেডিকেল সেন্টার নেফ্রোলজি বিভাগের প্রফেসর কিউরি আন, অস্ট্রেলিয়া ওয়েস্টার্ন সিডনি এলএইচডি ওয়েস্টমিড রিসার্চ হাব কাউন্সিলের প্রধান অধ্যাপক জেরেমি চ্যাপম্যান, ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরা বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রতি বছর ৩৫ থেকে ৪০ হাজার রোগী এন্ড-স্টেজ রেনাল ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন এবং অনেকেই মৃত্যুবরণ করেন। দেশে বছরে মাত্র কয়েকশ’ কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন হয়, যার মধ্যে মৃত ডোনার থেকে ট্রান্সপ্লান্টের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য।
আর্থিক সংকটের কারণে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ রোগী প্রয়োজনীয় ট্রান্সপ্লান্ট সেবা থেকে বঞ্চিত থাকেন। বক্তারা বলেন, সরকারকে কিডনি চিকিৎসা সেবাকে আরও সুলভ ও সহজলভ্য করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এই সম্মেলন মৃত ডোনার থেকে কিডনি দানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এবং ট্রান্সপ্লান্টেশন সেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
ভিওডি বাংলা/আরআই/এফএ








মন্তব্য