হরমুজ সংকটে বাংলাদেশে এলএনজি কমাচ্ছে কাতার

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতেও। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বাংলাদেশে চলতি বছরের নির্ধারিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতার এনার্জি। এতে সম্ভাব্য ঘাটতি মোকাবিলায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও শিল্প খাতসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।
পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, “এসব সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে যুদ্ধ। সম্ভাব্য এই ঘাটতি মেটাতে আমরা বিকল্প উৎসগুলো খতিয়ে দেখছি। এর মধ্যে খোলা বাজার থেকে বেশি পরিমাণে এলএনজি ক্রয় এবং অন্যান্য সরবরাহকারী দেশের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যে বিকল্পটি সবচেয়ে সুবিধাজনক হবে, আমরা সেটিই বেছে নেব।”
বাংলাদেশের এলএনজি আমদানির সবচেয়ে বড় উৎস কাতার। যুক্তরাষ্ট্রের পর বর্তমানে বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে রয়েছে কাতার।
গত বছর বাংলাদেশ মোট প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি আমদানি করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৪১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন এসেছে কাতার থেকে।
বর্তমানে পেট্রোবাংলা ও কাতার এনার্জির মধ্যে দুটি দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ চুক্তি চালু রয়েছে। এর একটি চুক্তির আওতায় বছরে ২৫ লাখ মেট্রিক টন এবং অন্যটির আওতায় ১৮ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি সরবরাহ করা হয়।
এদিকে সরবরাহ কমানোর বিষয়ে কাতার এনার্জির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানতে রয়টার্স যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভিওডি বাংলা/এমএস








মন্তব্য