নতুন দায়িত্ব পেয়ে দেশবাসীর দোয়া চাইলেন রাশেদ খান

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাশেদ খান। এ সময় তিনি তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন এবং পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিসৌধে তিনি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে বেগম খালেদা জিয়ার জন্যও দোয়া করা হয়।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে রাশেদ খান বলেন, গতকাল প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখে রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, যাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখতে পারি এবং তিনি যে রাজনৈতিক দায়িত্ব আমার ওপর দিয়েছেন, তা যথাযথভাবে পালন করতে পারি।’
রাশেদ খান বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময় থেকেই তারেক রহমানের নেতৃত্বে তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। তাঁর ভাষ্য, ২০২২ সালের যুগপৎ আন্দোলন, এক দফার আন্দোলন এবং পরবর্তী ছাত্র গণ–অভ্যুত্থানেও তিনি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি দাবি করেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে তিনি ও নূরুল হক নূর নেতৃত্বে ছিলেন। ২০২৪ সালে কোটা–সংক্রান্ত আন্দোলন শুরু হলে সেটিকে শুধু কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্র সংস্কারের আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং সেটি তারেক রহমানের নির্দেশনা ও নেতৃত্বে এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
রাশেদ খান বলেন, ‘আমি আমার জীবনে এমন কোনো কাজ করিনি, যাতে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর অনাস্থা স্থাপন করেন।’
তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের সময় রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে সমন্বয়ে তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর দাবি, ওই সময়ে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, নূরুল হক নূর, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরসহ অন্যদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমন্বয়ের জন্য একাধিক আলোচনা হয়েছিল।
রাশেদ খান বলেন, ‘২৪-এর গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি, সেই বাংলাদেশ আর কখনো ফ্যাসিবাদের যাতাকলে পিষ্ট হতে পারে না। সময় এসেছে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু দেশ পুনর্গঠনের প্রশ্নে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
তিনি অভিযোগ করেন, গণ–অভ্যুত্থানের পর বিরোধী রাজনীতির সুযোগ পাওয়া কিছু দল সরকারের রাষ্ট্র পুনর্গঠনের উদ্যোগ ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। তিনি জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা একটি গঠনমূলক বিরোধী দল হওয়ার চেষ্টা করুন। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ বিএনপির বিরুদ্ধে যে ভাষায় কথা বলত, এখন আপনাদের বক্তব্যেও সেই একই ভাষা শোনা যাচ্ছে।’
রাশেদ খান আরও বলেন, সরকারের পাঁচ মাসের কার্যক্রমে এমন কিছু ঘটেনি, যার কারণে গণ–অভ্যুত্থানের হুমকি দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। তাঁর ভাষ্য, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আবারও দেশবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মী এবং সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
ভিওডি বাংলা/আর








মন্তব্য