গুগলকে ১০০ কোটি ডলার জরিমানা করল ইউরোপীয় ইউনিয়ন
বাজারে প্রভাব খাটিয়ে প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সার্চ ইঞ্জিন গুগলকে ১০০ কোটি ডলার জরিমানা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এই পদক্ষেপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন অন্যায্যভাবে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এমন পরিস্থিতিতে গুগলের বিরুদ্ধে জরিমানার সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে, গুগল তাদের সার্চ ইঞ্জিনের প্রভাব ব্যবহার করে কেনাকাটা, ভ্রমণ, গেমস ও অনুবাদসহ বিভিন্ন নিজস্ব সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের সেবাগুলোকে সার্চ ফলাফলে পিছিয়ে রাখা হয়েছে, যা প্রতিযোগিতার নীতির পরিপন্থী বলে মনে করছে কমিশন।
তদন্তে আরও বলা হয়, গুগল প্লে স্টোরে এমন কিছু বিধিনিষেধ ছিল, যার কারণে অ্যাপ নির্মাতারা ব্যবহারকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ কিংবা বিকল্প পদ্ধতিতে লেনদেন করতে পারতেন না। কমিশনের মতে, গুগলের কমিশন আয় অক্ষুণ্ন রাখতে এসব সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল।
ইউরোপীয় কমিশনের ভাষ্য, গুগল ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট (ডিএমএ) লঙ্ঘন করেছে। ২০২২ সালে কার্যকর হওয়া এই আইনের উদ্দেশ্য হলো, বড় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলো যেন নিজেদের বাজার-প্রভাব ব্যবহার করে প্রতিযোগীদের জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রতিযোগিতা নীতিবিষয়ক নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট তেরেসা রিবেরা বলেন, "বাজারের সেরা পণ্য নিজস্ব মানের ভিত্তিতে সফল হবে, সার্চ ইঞ্জিন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকানার কারণে নয়। ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্টের লক্ষ্য হলো ডিজিটাল বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতা, ভোক্তার পছন্দের সুযোগ এবং উদ্ভাবন নিশ্চিত করা।"
কমিশন গুগলকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ৬০ দিনের সময় দিয়েছে। এর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী অনলাইন সেবাগুলোকে সার্চ ফলাফলে আরও দৃশ্যমান করতে হবে। নির্দেশনা মানতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক আয়ের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত জরিমানা করা হতে পারে।
গত এক দশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রকদের নজরে রয়েছে গুগল। ২০১৭ সালের পর থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা-বিরোধী মামলায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১০০ কোটি ইউরোরও বেশি জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে গুগলের প্রধান আইন কর্মকর্তা কেন্ট ওয়াকার বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গেলে তাদের পণ্যের নকশায় পরিবর্তন আনতে হবে, যা ইউরোপে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতাকে খারাপ করতে পারে। তার ভাষায়, "এটি ন্যায্য প্রতিযোগিতা নয়, বরং পণ্যের মান নষ্ট করার শামিল। নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত পণ্যের মান উন্নত করা, কমিয়ে দেওয়া নয়।"
যদিও জরিমানার অঙ্ক বড়, তবু গুগলের আর্থিক সক্ষমতার তুলনায় তা খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না। সম্প্রতি গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট জানিয়েছে, স্পেসএক্স ও অ্যানথ্রোপিকে বিনিয়োগের ইতিবাচক প্রভাব এবং ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির কারণে তাদের ত্রৈমাসিক মুনাফা বেড়ে ১১২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, হোয়াইট হাউস শিগগিরই ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিতে পারে।
শুধু গুগল নয়, সাম্প্রতিক সময়ে মেটা, টিকটক, আলিএক্সপ্রেসসহ একাধিক বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও প্রতিযোগিতা, ভোক্তা সুরক্ষা ও ডিজিটাল বাজারে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
ভিওডি বাংলা/এমএস









মন্তব্য