• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি এখন ছাত্রদলের শীর্ষ পদে

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি    ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৬ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক তোফায়েল আহমেদকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কখনো ওই পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগও করেননি। যদিও তোফায়েলের দাবি, মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হওয়ায় প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখতেই সে সময় ছাত্রলীগের সঙ্গে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন।

গত ৮ জুলাই কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ৬৮ সদস্যের নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে চারুকলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবকে আহ্বায়ক এবং ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের মারুফ হাসান (মামুন সরকার)কে সদস্যসচিব করা হয়। একই কমিটিতে ৭ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান তোফায়েল আহমেদ।

কমিটি ঘোষণার পরই তোফায়েলকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং আইন অনুষদ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে ৭ নম্বর সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং নতুন কমিটিতেও স্থান পান।

এদিকে, আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা মো. মহিন উদ্দিন অভিযোগ করেন, তোফায়েল তার বিরুদ্ধে মামলার ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, "মহিন আমার বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্য বা ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির যে অভিযোগ এনেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।"

ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গে তোফায়েল বলেন, "ওই সময় আওয়ামী লীগের স্বর্ণযুগ ছিল। ক্যাম্পাস এবং হলের পরিস্থিতির কারণে কৌশলে বা পারিপার্শ্বিক সুবাদে তৎকালীন ছাত্রলীগের কিছু কর্মসূচিতে আমার উপস্থিতি বা সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, ছাত্রত্ব চলে গেলে আমাদের জীবন অন্ধকার হয়ে যেত। তাই ক্যাম্পাসে টিকে থাকার তাগিদে বাধ্য হয়ে তখন তাদের সঙ্গে এক ধরনের লিয়াজোঁ বা সমঝোতা করে চলতে হতো এবং জোর-জবরদস্তি করে মাঝে মাঝে তারা আমাদের প্রোগ্রামে ডেকে নিত, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভালো করেই জানেন। তবে আমি যে ২০২২ সাল, ২০২৪ সাল বা এর আগেও ওপেন ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এবং ভিডিও বার্তা দিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতি করেছি, তার সমস্ত ডকুমেন্ট আমার কাছে আছে।"

এ বিষয়ে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, "আমরা খতিয়ে দেখেছি ওরা জুলাই আন্দোলন করেছে এবং তোফায়েল আহমেদকে বিগত সময়ের ছাত্রদলের প্রোগ্রামেও আমরা দেখেছি। জুলাই আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। যারা আমাদের নিয়ে কাজ করেছে তারা এই বিষয়টা খতিয়ে দেখেছে এবং পরবর্তীতে সে ছাত্রদলের প্রোগ্রামগুলোও করেছে। এরপর ও যদি ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকে তাহলে আমরা খতিয়ে দেখবো, দেখার পরে যদি কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা থাকে তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।"

ভিওডি বাংলা/এমএস 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
ঢাবি সাদা দলের নাম ভাঙিয়ে তদবির, সতর্ক করল সংগঠনটি
অভিযুক্ত দেবাশীষ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
জাবিতে ছাত্রীদের ছবি তোলার অভিযোগে যুবদল নেতা আটক
জাবিতে ছাত্রী হেনস্তাচেষ্টার অভিযোগে আটক বহিরাগতকে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করে আনসার সদস্যরা। ছবি: ভিওডি বাংলা
জাবিতে ছাত্রী হেনস্তা, আটক ১