• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

খুনি হাসিনার ফাঁসির দড়ি আমাদের হাতে: ইশরাক

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০৩ পি.এম.
কক্সবাজারের পেকুয়ায় ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইশরাক হোসেন। ছবি: ভিওডি বাংলা
কক্সবাজারের পেকুয়ায় ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইশরাক হোসেন। ছবি: ভিওডি বাংলা

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, খুনি হাসিনার ফাঁসির দড়ি আমরা হাতে নিয়ে বসে আছি। দূর থেকে বাংলাদেশে ফিরে এসে আবারও ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার যে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, তা বিলুপ্তপ্রায় রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একটি চেষ্টা মাত্র। 

তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের গণহত্যা এবং বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত গুম, খুন ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় এনে সেই বিচার কার্যকর করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিচার নিশ্চিত করতে তিনি সরকারপ্রধানের সঙ্গে বিষয়টি তুলে ধরবেন এবং দ্রুততম সময়ে বিচার কার্যকরের জন্য কাজ করবেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাঘগুজারা এলাকায় ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ওয়াসিম আকরামের কবর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ এবং বিশেষ দোয়া-মোনাজাত করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক বলেন, তিনি নিজে জুলাইয়ের স্বপক্ষের একজন ব্যক্তি, একজন রাজনৈতিক কর্মী এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের একজন রাজপথের কর্মী হিসেবে চান, জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, যারা নির্দেশদাতা ছিল এবং যারা মাঠপর্যায়ে সেই নির্দেশ পালন করেছে, তাদের সবার বিচার হোক। একইসঙ্গে বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত গুম, খুন ও হত্যাকাণ্ডসহ আওয়ামী লীগের সময়ে শেখ হাসিনার আমলে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারও চান তিনি।

ইশরাক হোসেন বলেন, শুধু কাগজে-কলমে বিচার হলেই হবে না, সেই বিচার কার্যকরও করতে হবে। সেই কার্যকর করার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছেন এবং জনগণের দাবির প্রতিফলন হিসেবেই এটি বাস্তবায়ন করতে চান।

হত্যাকারীরা এখনও দেশের বাইরে থেকে দেশে ফিরে আসার হুমকি দিচ্ছে-এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "খুনি হাসিনার ফাঁসির দড়ি আমরা হাতে নিয়ে বসে আছি।"দূর থেকে বাংলাদেশে ফিরে এসে আবারও ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার যে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, তা বিলুপ্তপ্রায় রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একটি চেষ্টা মাত্র।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা সংগ্রাম করেছেন এবং যাদের ভাইদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের দৃষ্টিতে এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা যদি কোনোদিন বাংলাদেশের মাটিতে ফিরে আসে, তবে রাজনীতি করা তো দূরের কথা, বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখা মাত্রই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ফাঁসির রায় কার্যকর করার জন্য যা যা করণীয়, সবকিছু করা হবে।

ইশরাক হোসেন বলেন, এই আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোটি কোটি, লক্ষ লক্ষ যুবক এখনও জীবিত রয়েছেন। তার মতে, বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিবাদকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। বর্তমানে যে ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, তা কেবল রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার ক্ষুদ্র প্রয়াস। সেটিকে কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, "আমরা তাদের ফাঁসির দড়ি হাতে নিয়ে বসে আছি। তারা আসুক বাংলাদেশে, আমরাও দেখিয়ে দেবো যে বাংলাদেশের জনগণ কীভাবে প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জানেন। যেটা বিগত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আমরা দেখিয়েছি, ইনশাআল্লাহ।"

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, “২০২৪ সালের আজকের এই দিনে ছয়জন শহিদ হয়েছিলেন। এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি মাইলফলক। আবু সাঈদ, ওয়াসিমরা আমাদের পথ দেখিয়েছিলেন-জুলাই থেকে আর ফেরার পথ নেই।”

তিনি আরও বলেন, “গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পরিসমাপ্তি হয়েছিল জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। শহিদ ওয়াসিমসহ প্রায় দুই হাজার মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে সেই আন্দোলন সফল হয়েছে।”

এসময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দীন আহমেদ (এনডিসি), পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি), ওয়াসিম আকরামের বাবা, কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ জেলা ও উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ‘কোটা নয়, মেধা’ স্লোগানে ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে গড়ে ওঠা জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শহিদ ছিলেন ওয়াসিম আকরাম। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুর এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
নতুন ভোটার হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে ইসি
ছবি: সংগৃহীত
আজ ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস
ছবি: সংগৃহীত
১০ হাজার পুলিশ নিয়োগ দেবে সরকার