• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
জুয়া প্রতিরোধসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ আইনের খসড়া অনুমোদন পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া টেকসই নগরী সম্ভব নয় বিডার ভরসা দেশি বিনিয়োগে ঋণখেলাপি ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ, তুমুল বিতর্ক চোখের চিকিৎসা সহজলভ্য করতে অপটোমেট্রি পেশার স্বীকৃতি প্রয়োজন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বিমানবাহিনী কর্মকর্তার স্ত্রী হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার সদরঘাটে নৌ পুলিশের অভিযানে অস্ত্রসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার মাদক প্রতিরোধে এলাকাভিত্তিক কমিটি গঠনের আহ্বান ডিএসসিসি প্রশাসকের সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের ১২ হাজার কোটি টাকা বনদস্যুতা নির্মূলে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে: কোস্ট গার্ড ডিজি

নাহিদ ইসলাম:

নতুন স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠার জন্য নয়, ঠেকাতেই গণঅভ্যুত্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪২ এ.এম.
ঘোড়াশালে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম-ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, এক স্বৈরাচারকে সরিয়ে নতুন কোনো স্বৈরাচারকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান হয়নি। বরং ভবিষ্যতে কেউ যেন স্বৈরাচার হয়ে উঠতে না পারে-সে লক্ষ্যেই এই গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনের ঘোড়াশাল এলাকায় এনসিপি ও ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।   

নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি রাজনৈতিক দল প্রথম থেকেই রাষ্ট্র সংস্কারের বিরোধিতা করে আসছে। ফ্যাসিবাদী আমলে তারা ৩১ দফা দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর দেখা গেছে, সেই প্রতিশ্রুতি থেকে তারা সরে এসেছে। রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে তারা এখন সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। এভাবে তারা জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং সকল সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণকে এখন হিসাব করে দেখতে হবে-কে কী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এবং অতীতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি কতটুকু রক্ষা করেছে। জনগণের কাছে দেওয়া কথা রক্ষা করা রাজনৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলে, তারা ক্ষমতায় গেলে একটি কথাও রাখবে না।

২০০৮ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, সে সময় দেশের মানুষকে ১০ টাকা কেজিতে চাল খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যে কোনো দিনই ১০ টাকা কেজির চাল জোটেনি। বরং এই দেশে থেকে শত শত কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে, বিদেশে পাচার হয়েছে। এর মাশুল দিতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে আমরা দেখতে পাচ্ছি কীভাবে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের সংসদে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। নতুন করে টাকা পাচার ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এসব অপচেষ্টা রুখে দিতে হলে জনগণকে ব্যালটের মাধ্যমেই জবাব দিতে হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজনীতি করতে চায় না। বাস্তবতা হচ্ছে-দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। এই অর্থনীতিকে আবার চাঙা করতে হলে মানুষের ঐক্য প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান-এই তিনটি খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, এসব খাতে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি চিরতরে বন্ধ করতে হবে। যে দেশে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা নিরাপদ থাকে, সে দেশে সাধারণ মানুষ কখনো নিরাপদ হতে পারে না।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, যে দলের কাছে নিজেদের নেতাকর্মী ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও নিরাপদ নয়, সেই দলের কাছে বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষ কখনো নিরাপদ থাকতে পারে না। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন সবচেয়ে নিরাপদ ১১ দলীয় জোটের হাতেই।

নির্বাচনী সংস্কৃতি নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বড় বড় কথা বলা, অবাস্তব ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসার যে রাজনীতি ছিল-চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে সেই রাজনীতির অবসান হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন সচেতন। তারা আর মিথ্যা আশ্বাসে বিভ্রান্ত হবে না।

ভোটকেন্দ্র দখল নিয়ে সতর্ক করে নাহিদ ইসলাম বলেন, যদি কোথাও ভোটকেন্দ্র দখলের কোনো পাঁয়তারা করা হয়, পালাশবাসী তা প্রতিহত করবে। শুধু পালাশ নয়, সারা দেশের মানুষই যেকোনো ভোট চুরি ও নির্বাচনী কারচুপির পরিকল্পনা রুখে দেবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ব্যালটের শক্তিতেই সব ষড়যন্ত্র পরাস্ত করা হবে।

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি দল আবারও সহিংসতার পথে হাঁটছে। গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ যে অভিজ্ঞতা দেশের মানুষকে দিয়েছে, গত ১৭ মাসেও সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে।

তিনি বলেন, যারা আবারও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে চায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।

বিএনপির সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, তারা নানা ধরনের কার্ডের কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। কিন্তু কোনটা কৃষক কার্ড আর কোনটা ফ্যামিলি কার্ড—তা নিজেরাই পরিষ্কার করতে পারছে না। তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে বুঝবে?

তিনি বলেন, এনসিপি ও ১১ দলীয় জোট মানুষের সামনে পরিষ্কার রাজনীতি ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তুলে ধরছে। জনগণের রায় পেলেই এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

জনসভা থেকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নরসিংদী-২ আসনে এনসিপি প্রার্থী সারোয়ার তুষারের প্রতীক ‘শাপলা কলি’ এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসমর্থন প্রত্যাশা করেন তিনি।

এ সময় জনসভায় নরসিংদী-২ আসনের প্রার্থী সারোয়ার তুষারসহ এনসিপি ও ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সেই জামায়াত এমপিকে সংসার গুছিয়ে দিতে চাইলেন পার্থ
সেই জামায়াত এমপিকে সংসার গুছিয়ে দিতে চাইলেন পার্থ
জুবাইদা রহমানের জন্মদিনে জনহিতকর কর্মসূচি
জুবাইদা রহমানের জন্মদিনে জনহিতকর কর্মসূচি
চরমোনাই মাদরাসার প্রভাষকের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি ইসলামী আন্দোলনের
চরমোনাই মাদরাসার প্রভাষকের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি ইসলামী আন্দোলনের