রিয়ালের বিতর্কিত পেনাল্টি নিয়ে বার্সা প্রেসিডেন্টের খোঁচা

বার্সেলোনার সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে নিয়ে আবারও তীব্র মন্তব্য করেছেন। রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচে শেষ মুহূর্তে রিয়াল যে বিতর্কিত পেনাল্টি পেয়েছে, তা নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে ঠাট্টা করেছেন। লাপোর্তা রেফারির সিদ্ধান্তকে সরাসরি ‘ডাইভ’ বলে আখ্যা দেন এবং এর মাধ্যমে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন যে, রিয়ালকে অনুকূল রেফারিং সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
ম্যাচটি ছিল নাটকীয়। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১-১ সমতা থাকায় যোগ সময়ে রিয়াল মাদ্রিদ পেনাল্টি পায়। ব্রাহিম দিয়াজ বক্সে পড়ে গেলে রেফারি তা পেনাল্টি হিসেবে নেন। কিলিয়ান এমবাপ্পে স্পট-কিকটি জালে পরিণত করে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট রিয়ালের পক্ষে নিশ্চিত করেন। কিন্তু ক্যাম্প ন্যুতে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে চরম হতাশা এবং বিদ্রূপ শুরু হয়। লাপোর্তা সহকর্মীদের সঙ্গে আলাপে প্রকাশ্যেই এই ঘটনা নিয়ে ঠাট্টা করেন।
লাপোর্তার উপহাসের পেছনে কৌশলগত কারণও আছে। রায়ো ভায়েকানো পুরো ম্যাচ জুড়ে রিয়ালকে চাপে রেখেছিল। বিশেষ করে নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়ার অধীনে রিয়াল লক্ষ্য পূরণে হিমশিম খাচ্ছিল। ম্যাচের সমাপ্তি ড্র হলে, লা লিগার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার জন্য সুবিধা হত, কারণ তারা লিড আরও বাড়াতে পারত। কিন্তু দিয়াজের সেই মুহূর্ত ম্যাচের চেহারা বদলে দেয়।
বার্সার মতে, মরোক্কান তারকা বক্সে ঢুকে পড়ে পেনাল্টি পাওয়া ‘ডাইভ’ ছিল, যা ভিএআরও বাতিল করেনি। এমবাপ্পের ঠান্ডা মাথার ফিনিশ রিয়ালকে গুরুত্বপূর্ণ জয়ে পৌঁছে দিল, কিন্তু বার্সার হতাশা বাড়িয়ে তোলে।
এই মন্তব্য দুই ক্লাবের ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত সম্পর্ককে আরও জ্বালানি যোগ করেছে। জানুয়ারির শুরুতে স্প্যানিশ সুপার কাপ ফাইনালের পর থেকে দু’পক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক কার্যত ভেঙে পড়েছে। সেই ম্যাচে বার্সেলোনা ৩-২ ব্যবধানে জয় লাভ করে, এবং শাবি আলোনসো বরখাস্ত হন। ফাইনালের পর এমবাপ্পে সতীর্থদের জন্য প্রথাগত গার্ড অব অনার উপেক্ষা করার ঘটনাও কাতালানদের কাছে শিষ্টাচারের অভাব হিসেবে ধরা পড়ে।
এর ফলে লাপোর্তা ও রিয়ালের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের মধ্যে ‘ঠান্ডা যুদ্ধ’ এখন প্রকাশ্য বৈরিতায় রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি রায়ো ভায়েকানো ম্যাচের পেনাল্টি নিয়ে লাপোর্তার ব্যঙ্গ প্রকাশ করে বোঝা যায় যে, সংযমের কোনো স্থান নেই।
বার্সার এই মন্তব্য কেবল ব্যক্তিগত বিরোধের প্রকাশ নয়, বরং কৌশলগতও। লিগের শেষ পর্যায়ে মানসিক লড়াই শারীরিক লড়াইয়ের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। পেনাল্টির বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করে, বার্সা একটি রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাচ্ছে-যাতে প্রমাণ হয় যে, রেফারিং কখনো কখনো আরবেলোয়ার দলের পক্ষে প্রিয়পাত্র হিসেবে কাজ করছে।
রায়ো ভায়েকানো ম্যাচে রিয়ালের খেলার ছন্দ ছিল দূর্বল। পুরো ম্যাচে তাদের রক্ষণভাগকে ভাঙতে হিমশিম খেতে হয়। একসময়ে মনে হচ্ছিল, লিগে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট রিয়াল হারাবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পাওয়া পেনাল্টি আর এমবাপ্পের গোল রিয়ালের জন্য জীবনরেখার মতো কাজ করে।
এদিকে লাপোর্তার ‘ডাইভ’ মন্তব্য সামাজিক মাধ্যম ও কাতালান মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়। ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কেবল রিয়ালের বিরুদ্ধে নয়, পুরো লা লিগার রেফারিং প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি চেষ্টাও হতে পারে। একই সঙ্গে, বার্সার শিবির মানসিকভাবে নিজেদের সমর্থকদের শক্তি দিতে চাইছে।
উল্লেখযোগ্য যে, লা লিগার উত্তপ্ত সমঝোতা এবং দুই ক্লাবের ‘এভারেস্ট স্তরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ শুধুমাত্র মাঠে সীমাবদ্ধ নয়। বোর্ডরুমেও এটি স্পষ্ট। প্রতিটি ছোট ঘটনা-যেমন পেনাল্টি, সতীর্থদের আচরণ, বা সামাজিক ইঙ্গিত-দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তোলে।
রিয়ালের জয়ের পর, লা লিগার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সুবিধা কিছুটা কমে গেছে। এই পরিস্থিতিতে লাপোর্তার প্রকাশ্য ব্যঙ্গ নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে। এর ফলে সমঝোতার যে ক্ষীণ সম্ভাবনা ছিল, তা পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে।
পরবর্তীতে লা লিগার ফাইনাল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই উত্তেজনা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মানসিক যুদ্ধ এখন শারীরিক খেলার পাশাপাশি লিগের কৌশলগত দিকেও বড় প্রভাব ফেলবে।
রিয়ালের বিতর্কিত পেনাল্টি ও বার্সার প্রেসিডেন্টের খোঁচা স্প্যানিশ ফুটবলের দুই প্রধান ক্লাবের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা দিচ্ছে। লা লিগার দর্শকরা আগের চেয়ে বেশি নাটকীয়তা প্রত্যাশা করছেন, যেখানে মাঠের খেলা এবং বোর্ডরুমের কৌশল একসাথে ফুটবল রাজনীতির অংশ হয়ে উঠেছে।
ভিওডি বাংলা/জা







