• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা:

রাজনীতিতে জড়ালে শিল্পীর সম্মান নষ্ট হয়

বিনোদন ডেস্ক    ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:১০ পি.এম.
চলচ্চিত্র জগতের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা -ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা সম্প্রতি ‘একুশে পদক’-এর জন্য মনোনীত হওয়ার পর এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বললেন, শিল্পীরা সরাসরি রাজনীতিতে জড়ানো উচিত নয়। তার মতে, রাজনীতিতে যুক্ত হলে একজন শিল্পীর দীর্ঘদিনের অর্জন ও সম্মান দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ববিতা বলেন, “একজন শিল্পী যখন রাজনীতিতে জড়ান, তখন তার সব অর্জন শূন্য হয়ে যায়। মানুষ তখন ভালোবাসার বদলে গালি দেয়। আমাদের মর্যাদা একজন রাজনীতিবিদের চেয়ে অনেক বেশি এবং দীর্ঘস্থায়ী। কিন্তু রাজনীতিতে যুক্ত হলে সেই গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে যায়।”

চলচ্চিত্র জগতে বহু তারকাকে সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা গেলেও ববিতা বরাবরই এই বিষয়ে সংযত। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সহকর্মীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপট তাকে এই বিষয়ে সতর্ক করেছে।

দীর্ঘ অভিনয় জীবনে ববিতা আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক সম্মাননা অর্জন করেছেন। এবারের একুশে পদক প্রাপ্তিতে তিনি বেশ উচ্ছ্বসিত। এই অর্জনকে তিনি তার মেন্টর এবং প্রখ্যাত নির্মাতা জহির রায়হানকে উৎসর্গ করেছেন।

“জহির রায়হান সাহেব আমাকে চলচ্চিত্রে না আনলে আমি আজকের ববিতা হতে পারতাম না। একুশ আমার প্রাণ, তাই এই পদক তারই প্রাপ্য।”- তিনি বলেন।

গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রুপালি পর্দা থেকে দূরে থাকা ববিতা অভিনয় পুরোপুরি ছাড়েননি। তিনি ভালো গল্প ও শক্তিশালী চরিত্রের অপেক্ষায় রয়েছেন। বর্তমান সিনেমার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখন শুধু ‘মা’ বা ‘ভাবি’র মতো সাধারণ চরিত্রের জন্য আমাকে ডাকা হয়। ভারতের অমিতাভ বচ্চন বা রেখাদের মতো এখানে শক্তিশালী চরিত্র নেই। যদি কোনো পরিচালক বাস্তবধর্মী এবং বলিষ্ঠ চরিত্র নিয়ে আসেন, তবেই আমি ক্যামেরার সামনে দাঁড়াব।”

সফল ক্যারিয়ারের পেছনে কিছু ব্যক্তিগত আক্ষেপও জানিয়েছেন ববিতা। শৈশব থেকেই চলচ্চিত্রে ব্যস্ত হওয়ায় তিনি সাধারণ মানুষের মতো ঘুরে বেড়ানো বা সাধারণ জীবন উপভোগ করতে পারেননি। এ নিয়ে তার মনে অতৃপ্তি রয়ে গেছে।

নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের জন্য তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, “শুধু অর্থের পেছনে না ছুটে শিল্পের প্রতি ক্ষুধার্ত হতে হবে। গ্রামের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে চোখে লেন্স লাগানো বাস্তবসম্মত নয়। অভিনয়ের গভীরে যেতে হলে সততা ও পরিশ্রম ছাড়া বিকল্প নেই।”

ববিতা নতুন সরকারের প্রতি প্রত্যাশা প্রকাশ করে বলেন, সিনেমা হলের সংখ্যা বাড়ানো, এফডিসিকে আধুনিকায়ন করা এবং শিল্পচর্চার জন্য দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। তিনি বিশ্বাস করেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং শিল্পীদের মর্যাদা বজায় রাখবে।

চলচ্চিত্র জগতে তার অবদান আজও নতুন প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস। দীর্ঘ পথচলায় অর্জিত সম্মান, সততা ও পরিশ্রমের প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ববিতাকে যুগের জনপ্রিয় ও শ্রদ্ধেয় অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
এপস্টেইন ফাইলে নামের বিতর্কে এবার মুখ খুললেন অনুরাগ
এপস্টেইন ফাইলে নামের বিতর্কে এবার মুখ খুললেন অনুরাগ
বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার মারা গেছেন
বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার মারা গেছেন
ফের শাকিবের সন্তানের মা হচ্ছেন বুবলী!
ফের শাকিবের সন্তানের মা হচ্ছেন বুবলী!