• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

৩ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ইসিকে চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৭ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত

নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন দিনের মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক প্রস্তুতি নিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। কমিশন ইতোমধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহে কমিশনের সভায় নির্বাচনের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে।

জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি তোলে জামায়াত ও তাদের মিত্ররা। তবে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বিরোধিতার কারণে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকার পরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে সরে আসে।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় অর্জনের মধ্যদিয়ে বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন হয়। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হাতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ ঘটে। এ সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদায় নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন দিনের মধ্যেই স্থানীয় সরকার বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠায়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে। নির্বাচন কমিশনও ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে।

আইন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রথম সভা হয়েছিল ২০২০ সালের ২ জুনে, তাই মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের ১ জুন। ঢাকা উত্তর সিটির প্রথম সভা হয়েছিল ২০২০ সালের ৩ জুনে, যার মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের ২ জুন। চট্টগ্রাম সিটির প্রথম সভা হয়েছিল ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, এবং এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২২ ফেব্রুয়ারি।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠি পেয়েছি। ইতোমধ্যে আমরা প্রস্তুতি শুরু করেছি। সম্ভবত আগামী সপ্তাহে কমিশনের সভায় বিস্তারিত পরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে। অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমরা প্রভাবমুক্ত নির্বাচন করেছি, ভবিষ্যতেও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্থানীয় সরকারের মেয়র, কাউন্সিল, চেয়ারম্যানদের পদত্যাগের পর অন্তর্বর্তী সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০ পৌরসভা, ৩৯৭ উপজেলা পরিষদ এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের প্রতিনিধিদের অপসারণ করে। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠান প্রশাসক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ শুরু করল।

এ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন সরকারের দ্রুত উদ্যোগ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতি সরকারী দায়িত্ববোধ এবং স্বচ্ছতার প্রমাণ বহন করছে।

ভিওডি বাংলা/জা
 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
শনিবার প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করবেন তারেক রহমান
শনিবার প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করবেন তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৃক্ষরোপণ নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৃক্ষরোপণ নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা
কারও চাঁদাবাজি করার আর সুযোগ নেই: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী
কারও চাঁদাবাজি করার আর সুযোগ নেই: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী