শেখ রবিউল আলম
ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া নিলে রুট পারমিট বাতিল করা হবে

সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ঈদযাত্রায় বাসে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ বাড়তি ভাড়া নিলে তার রুট পারমিট বাতিল করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকালে ঈদে সড়ক, রেল ও নৌপথে যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভা শেষে তিনি এসব কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রা উপলক্ষে সড়কে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ, ভ্রাম্যমাণ আদালত, স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট সবাই এ বিষয়ে তৎপর রয়েছে। সড়ক-মহাসড়ক সংশ্লিষ্ট থানা ও জেলার প্রশাসন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। পরিবহন শ্রমিক ও মালিক নেতারাও দায়িত্ব নিয়েছেন—কোনো অবস্থাতেই অনৈতিক সুবিধা নেওয়া যাবে না।
তিনি জানান, দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাবে, যা বড় একটি চ্যালেঞ্জ। পৃথিবীর অন্য কোনো শহরে এত অল্প সময়ে এত মানুষের একযোগে শহর ত্যাগের নজির আছে কিনা তা তার জানা নেই। তবে অতীতের অভিজ্ঞতায় এবারও সফলভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সমঝোতা চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মালিক বা শ্রমিক সমিতি যদি রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত ও বৈধভাবে নিজেদের কল্যাণে নির্ধারিত হারে অর্থ সংগ্রহ করে, সেটিকে চাঁদাবাজি বলা যাবে না। তবে কোনো সংগঠনের বৈধতা বা রেজিস্ট্রেশন না থাকলে এবং তারা স্বেচ্ছাচারীভাবে মালিক, শ্রমিক বা পরিবহন সেক্টর থেকে অর্থ আদায় করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।
বাড়তি ভাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়া রয়েছে। সেই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকা বেশি নিলেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বাসের রুট পারমিট বাতিল করা হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনায় ফৌজদারি অপরাধ হলে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
গার্মেন্টস ছুটি নিয়ে তিনি জানান, ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হবে। ১৬ তারিখ থেকে একটি অংশ ছুটিতে যাবে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যরাও ছুটি পাবে—এ বিষয়ে মালিকপক্ষ পরিসংখ্যান দিয়ে নিশ্চয়তা দিয়েছে। কোনো ব্যত্যয় ঘটলে যানজট এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তাৎক্ষণিক নেওয়া হবে।
ঈদকে সামনে রেখে ২৮টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। হাইওয়ের ওপর অস্থায়ী দোকান, যত্রতত্র পার্কিং ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের কারণে রাস্তা দখল করে যানজট সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না। হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে। প্রয়োজনে জনপ্রতিনিধিদেরও সম্পৃক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, যাত্রীচাপের কারণে অনেক সময় অল্প মেরামত করে ফিটনেসবিহীন যানবাহন রাস্তায় নামানো হয়, যা মাঝপথে বিকল হয়ে যানজট তৈরি করে। এসব ওয়ার্কশপে নজরদারি বাড়ানো হবে এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি কোনো অবস্থাতেই সড়কে উঠতে দেওয়া হবে না।
ঈদের দুই দিন আগে ও দুই দিন পরে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও পচনশীল পণ্য ছাড়া অন্যান্য মালবাহী ট্রাক-লরি চলাচল সীমিত রাখা হবে। বিশেষ করে বন্দর থেকে অপ্রয়োজনীয় পণ্য খালাস কমাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সড়কে চাপ কমে।
নৌপথে চাপ কমাতে বসিলা ঘাট ও কাঞ্চনঘাট চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এতে সদরঘাটের ওপর চাপ কমবে এবং যাত্রীরা বিকল্প ঘাট ব্যবহার করে লঞ্চে উঠতে পারবেন। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/সবুজ/জা







