ঈদ শপিংয়ের ক্লান্তি এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য টিপস

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে এখন মানুষের মাঝে চোখে পড়ার মতো কেনাকাটার রোমাঞ্চ দেখা যাচ্ছে। এ সময় বাতাসে উচ্ছ্বাস থাকলেও তীব্র গরম এবং মার্কেটের ভিড়ের কারণে অনেকেই শারীরিক ক্লান্তিতে ভোগেন। বিশেষ করে রোজা রেখে কেনাকাটা করতে গেলে শরীর স্বাভাবিকের চেয়ে ভিন্ন ছন্দে চলে, যা আরও সতর্কতার দাবি রাখে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. বাপ্পি বলেন, “রোজা রাখলে শরীরের শক্তি ও পানিশূন্যতার কারণে ক্লান্তি হওয়া স্বাভাবিক। তাই ঈদের কেনাকাটার সময় শারীরিক সীমাবদ্ধতার দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।” তিনি জানান, কিছু সহজ পরিকল্পনা ও সচেতনতায় এই ক্লান্তি অনেকটা এড়ানো সম্ভব।
প্রথমত, কেনাকাটার আগে কী কী জিনিস দরকার তা একটি তালিকায় রাখলে অযথা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে হয় না। প্রয়োজন মতো নির্দিষ্ট মার্কেটে গিয়ে পছন্দের জিনিস সংগ্রহ করলে অযথা খাটনি কমে।
দ্বিতীয়ত, যেহেতু এই সময় গরম পড়ছে, তাই হালকা ও আরামদায়ক পোশাক এবং আরামদায়ক পাদুকা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়া ওয়েট টিস্যু সঙ্গে রাখলে ঘাম মুছে নেওয়ায় আরাম হয়। ছোট একটি ইলেক্ট্রিক ফ্যান সঙ্গে রাখলে মার্কেটে ঘুরতে আরও স্বস্তি পাওয়া যায়।
তৃতীয়ত, সাধারণত দুপুরের পর তাপমাত্রা কম থাকে। তাই ইফতারের পর বা সন্ধ্যা-রাতেও কেনাকাটা করা যায়। যদি দুপুরে যাওয়া ছাড়া উপায় না থাকে, তবে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত মার্কেট বেছে নেওয়া ভালো।
চতুর্থত, রোজার সময় স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। খুব ভাজা, মিষ্টি বা অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার শরীরকে আরও ক্লান্ত করে।
পঞ্চমত, কেনাকাটার সময় যদি অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা বা ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তা কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। ডা. বাপ্পি বলেন, “এগুলো সাধারণত পানিশূন্যতার লক্ষণ। এমন হলে অবশ্যই বিশ্রাম নিতে হবে। যদি বাইরে থাকেন, ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিন। ইফতারের পর মার্কেটে থাকলে পানি, লেবুর শরবত বা ডাবের পানি পান করলে ক্লান্তি অনেকটাই কমে।”
ঈদ শপিংকে আনন্দময় ও ক্লান্তিমুক্ত করতে কিছু সহজ প্রস্তুতি এবং সচেতনতা কাজে লাগে। সঠিক সময়, তালিকা প্রস্তুতি, আরামদায়ক পোশাক, পর্যাপ্ত পানি এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের মাধ্যমে রোজা রেখে কেনাকাটাও সহজ ও স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠতে পারে।
ভিওডি বাংলা/জা







