বিশ্বকাপ ইস্যুতে ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানের কড়া প্রতিক্রিয়া

ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বেশি সময় বাকি নেই। তবে সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে বিশ্বকাপে না খেলতে পরামর্শ দিয়েছেন। এর জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। তবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা যেহেতু বাছাইপর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে, তাই তাদের বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইরান জাতীয় দল জানিয়েছে, বিশ্বকাপ একটি আন্তর্জাতিক আয়োজন এবং এটি কোনো একক দেশের অধীনে নয়। এই প্রতিযোগিতা পরিচালনা করে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা। তাই যোগ্যতা অর্জন করা একটি দলকে সহজে বাদ দেওয়া সম্ভব নয়।
আগামী বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে। সূচি অনুযায়ী ইরানের তিনটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রেই হওয়ার কথা। এর মধ্যে দুটি লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রবাসী ইরানির সংখ্যা বেশি হওয়ায় মাঠের ভেতরে ও বাইরে রাজনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে তার বিশেষ উদ্বেগ নেই। তবে পরে দেওয়া পোস্টে তিনি ভিন্ন মন্তব্য করেন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আশাবাদ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ইরান যেহেতু যোগ্যতা অর্জন করেছে, তাই তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দুনিয়ামালি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ইরান অংশ নাও নিতে পারে।
রাজনৈতিক কারণে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট থেকে কোনো দলকে বাদ দেওয়ার ঘটনা খুব বেশি নেই। তবে ১৯৯২ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে বলকান যুদ্ধের কারণে যুগোস্লাভিয়াকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং তাদের পরিবর্তে ডেনমার্ককে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এছাড়া ইউক্রেন আক্রমণের পর রাশিয়াকেও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এখন শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে ইরান অংশ নেয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।
ভিওডি বাংলা/আ







