• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

এ বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ হাতে হাসবে কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৯ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

একের পর এক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে চমক দেখাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মা হারানোর শোক বুকে চেপে দেশের দায়িত্ব কাধে তুলে নেওয়া তারেক রহমানের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পদক্ষেপে হাসি ফুটেছে মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্তসহ প্রান্তিক মানুষের মুখে। এবার সময় এসেছে কৃষকের মুখে হাসি ফোটানোর। মৎস্যচাষি ও দুগ্ধখামারিসহ ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষক পাবেন নির্বাচনী প্রতিশ্রিুতির সেই ‘কৃষক কার্ড’। এর মাধ্যমে কৃষকদের কাঠামোগত বঞ্চনার অবসান ঘটাতে চায় বিএনপি সরকার।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিন কৃষকের হাতে কার্ড তুলে দিয়ে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। ওই দিন থেকেই শুরু হবে কৃষক কার্ড বিতরণ। যে কার্ডের আওতায় কৃষক ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন।

 কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, দেশে মোট কৃষক পরিবারের সংখ্যা ১ কোটি ৬৫ লাখ। প্রাথমিকভাবে কৃষক কার্ডের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ বছরে ৬৮১ কোটি টাকা। তবে সবকিছু চূড়ান্ত হওয়ার পর ব্যয় কমবেশি হতে পারে।

কৃষকের অন্যান্য ভাতা প্রাপ্তির কোনো কার্ড থাকলে সেটা এ কার্ডের অধীনে চলে আসবে। তবে এ কার্ডের মাধ্যমে কোন সুবিধাগুলো কী পদ্ধতিতে দেওয়া হবে, সেটা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ জন্য কয়েকটি উপজেলায় পরীক্ষা–নিরীক্ষা চলছে।

যে ১০ সুবিধা পাবেন কৃষক:

এ কার্ডের আওতায় একজন কৃষক ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি, সরকারি প্রণোদনা, ন্যায্যমূল্যে সেচসুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বিমাসুবিধা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা, কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ, আবহাওয়ার তথ্য, রোগবালাই দমনে পরামর্শ- এই ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে।

এ কার্ডের আওতায় জমির পরিমাণ অনুযায়ী কৃষক সার কিনতে পারবেন। এতে কৃষিজমিতে অতিরিক্ত সারের ব্যবহার বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর গণমাধ্যমকে বলেন, এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো কৃষককে স্বীকৃতি দেওয়া ও তার মর্যাদা নিশ্চিত করা। এ জন্যে সোনালী ব্যাংকে প্রত্যেক কৃষকের ব্যাংক একাউন্ট করা হবে। প্রথম ধাপে ২১ হাজার ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। 

তিনি জানান, ৫ শতাংশের কম জমির মালিক হলে ভূমিহীন, ৫ থেকে ৪৯ শতাংশের মালিক হলে প্রান্তিক ও ৫০ থেকে ২৪৯ শতাংশ জমির মালিক হলে তাকে ক্ষুদ্র কৃষক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

কার্ডে কৃষকের ৪৫ ধরনের তথ্য থাকবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আর্থিক প্রণোদনার টাকা কৃষিতেই যেন ব্যয় হয়, সেটা নিশ্চিত করা হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কৃষক কার্ড দেওয়ার অংশ হিসেবে দেশের ১০টি উপজেলার ১০টি কৃষি ব্লকে পরীক্ষামূলকভাবে তথ্য–উপাত্ত সংগ্রহের কাজ চলছে। এপ্রিলের মধ্যে উপাত্ত সংগ্রহের কাজ শেষ হবে। এরপর ১৫টি উপজেলার সব কৃষককে নিয়ে কৃষক কার্ডের বিষয়টি পরীক্ষা–নিরীক্ষা হবে। এ ছাড়া কৃষকের আয়, জমির মালিকানা ও আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ক্ষুদ্র, ভূমিহীন, প্রান্তিক, মাঝারি ও সচ্ছল—এই ৫ শ্রেণিতে কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করার কাজও চলমান আছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অন্যতম অঙ্গীকার ছিল কৃষক কার্ড। নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে বিএনপি সরকার। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে এ ঋণ মওকুফ করে সরকার। মওকুফ করা ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এতে উপকৃত হবেন কমপক্ষে ১২ লাখ কৃষক।

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরকার কৃষি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, কৃষকের সামগ্রিক আয় বৃদ্ধি, প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনা, কৃষকের চাষাবাদের খরচ কমানো, কৃষিপণ্যের বিপণন প্রক্রিয়া উন্নত করা ও সব ধরনের ভর্তুকি (আর্থিক ও কৃষি উপকরণ) বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

ভিওডি বাংলা/আরআর

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষায় শহীদ জিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের আহ্বান প্রশাসকের
দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষায় শহীদ জিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের আহ্বান প্রশাসকের
সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ফোন করে খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ফোন করে খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধের যে স্বপ্ন আজও বাস্তবায়ন হয়নি: স্পিকার
মুক্তিযুদ্ধের যে স্বপ্ন আজও বাস্তবায়ন হয়নি: স্পিকার