আলোচনার জন্য পাকিস্তান সফরে আসতে পারেন ট্রাম্প

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সম্ভাব্য সমাধান ঘিরে নতুন ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইসলামাবাদে যদি কোনো শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তবে তিনি নিজেও পাকিস্তান সফরে যেতে পারেন। একই সঙ্গে তার দাবি, ইরান ইতোমধ্যে অধিকাংশ শর্তে সম্মত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আগামী সপ্তাহে শেষ হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে, তবে হয়তো তার প্রয়োজনই হবে না। যদি ইসলামাবাদে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, আমি যেতে পারি। তারা আমাকে চায়।”
তিনি আরও দাবি করেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিমান হামলার পর ইরান গোপনে সংরক্ষিত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগে সম্মত হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি। এদিকে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে ওয়াশিংটন।
পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “কি হয় দেখা যাক। তবে আমার মনে হয় আমরা ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি।” পরে নেভাদার লাস ভেগাসে এক অনুষ্ঠানে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ “খুব শিগগিরই” শেষ হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চাপে পরিণত হয়েছে।
ট্রাম্প জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে তার ‘চমৎকার আলোচনা’ হয়েছে। আলোচনাকে এগিয়ে নিতে তাদের হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে বৃহস্পতিবার লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইনকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে, লেবাননে যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে ইরান। দেশটির গণমাধ্যমের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতার অংশ। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/এমএস







