• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
জুয়া প্রতিরোধসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ আইনের খসড়া অনুমোদন পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া টেকসই নগরী সম্ভব নয় বিডার ভরসা দেশি বিনিয়োগে ঋণখেলাপি ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ, তুমুল বিতর্ক চোখের চিকিৎসা সহজলভ্য করতে অপটোমেট্রি পেশার স্বীকৃতি প্রয়োজন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বিমানবাহিনী কর্মকর্তার স্ত্রী হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার সদরঘাটে নৌ পুলিশের অভিযানে অস্ত্রসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার মাদক প্রতিরোধে এলাকাভিত্তিক কমিটি গঠনের আহ্বান ডিএসসিসি প্রশাসকের সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের ১২ হাজার কোটি টাকা বনদস্যুতা নির্মূলে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে: কোস্ট গার্ড ডিজি

সিআইডির অনুসন্ধানে কোটি টাকার মাদক সিন্ডিকেট

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৩ পি.এম.
ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুরের টঙ্গীতে একই পরিবারের সদস্যদের ঘিরে গড়ে ওঠা একটি সংঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেটের সন্ধান পেয়েছে সিআইডি।  এই চক্রের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে অভিযুক্ত হয়েছেন পরিবারের ৭ সদস্য—বাবা, তিন মেয়ে, দুই জামাই ও এক পুত্রবধূ।

সিআইডির অনুসন্ধান বলছে, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১৭ বছরে এই চক্র তাদের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ৫ কোটি ১৭ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৭ টাকা লেনদেন করেছে। অথচ তাদের কোনো বৈধ আয়ের উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তদন্তে উঠে এসেছে, তিন বোন-মোসা. আসমা, রেশমা খাতুন ও লিজা বেগম (ওরফে লিপি আক্তার)—এই চক্রের মূলহোতা। তাদের নেতৃত্বে পরিবারের অন্য সদস্যদের যুক্ত করে গড়ে তোলা হয় একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক।

চাঁদপুরের বাসিন্দা হলেও পরবর্তীতে সবাই গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার দত্তপাড়া এলাকায় বসবাস শুরু করে। সেখান থেকেই পরিচালিত হতো মাদক ব্যবসার পুরো কার্যক্রম।

সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মাদক সংগ্রহ করে স্থানীয় বাহক ও সহযোগীদের মাধ্যমে গাজীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হতো। লেনদেনের জন্য ব্যবহার করা হতো ব্যাংকিং চ্যানেল—যা পরে মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বৈধ অর্থে রূপান্তরের চেষ্টা করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই চক্র মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে অন্তত ৭৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকার জমি কিনেছে। এছাড়া বাকি অর্থের একটি বড় অংশ আবার মাদক ক্রয় ও ব্যক্তিগত ভোগ-বিলাসে ব্যয় করা হয়েছে।

তদন্তকারীরা বলছেন, অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। 

এই পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে, যার বেশিরভাগই মাদক সংক্রান্ত। রেশমা খাতুনের বিরুদ্ধে রয়েছে ১০টি মামলা, লিজা বেগমের বিরুদ্ধে ৭টি, মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে ৫টি, আসমার বিরুদ্ধে ৩টি এবং অন্যদের বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক মামলা। 

এই তথ্যগুলো ইঙ্গিত দেয়, তারা দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধ কার্যক্রমে জড়িত ছিল। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) অনুযায়ী, অবৈধ মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ বৈধ করার চেষ্টা নিজেই একটি অপরাধ। আইনের ২(শ)(৮) ধারায় মাদক ব্যবসাকে মানিলন্ডারিংয়ের সম্পৃক্ত অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই চক্রের বাইরে আরও অজ্ঞাত সদস্য থাকতে পারে। তাদের শনাক্ত ও সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক উন্মোচনে কাজ চলছে।

ভিওডি বাংলা/এমআই/এসআর

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বনদস্যুতা নির্মূলে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে: কোস্ট গার্ড ডিজি
বনদস্যুতা নির্মূলে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে: কোস্ট গার্ড ডিজি
১ লাখ পিস ইয়াবা গায়েব, বিতর্কিত সেই ওসি প্রত্যাহার
১ লাখ পিস ইয়াবা গায়েব, বিতর্কিত সেই ওসি প্রত্যাহার
ফেসবুকে প্রবাসীর সঙ্গে প্রেম, হঠাৎ বাড়িতে হাজির প্রেমিকা
ফেসবুকে প্রবাসীর সঙ্গে প্রেম, হঠাৎ বাড়িতে হাজির প্রেমিকা