১ লাখ পিস ইয়াবা গায়েব, বিতর্কিত সেই ওসি প্রত্যাহার

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) বাকলিয়া থানায় এক লাখ পিস ইয়াবা গায়েবের অভিযোগে আলোচিত তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন শেখকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ বাহিনীর পেশাগত সততা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী একটি দূরপাল্লার বাস থেকে প্রায় দুই কোটি পঞ্চাশ লাখ টাকা বাজারমূল্যের এক লাখ পিস ইয়াবাসহ ইমতিয়াজ হোসেন নামের এক পুলিশ সদস্যকে আটক করার পর কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে মাদকটি গায়েব করার অভিযোগ ওঠে। অভ্যন্তরীণ তদন্তে এ ধরনের অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে বলে জানা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি তৎকালীন বাকলিয়া থানার ওসি আফতাব উদ্দিন শেখের নির্দেশনায় সম্পন্ন হয়। আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও মামলা রুজু না করে আলামত ধ্বংসের সুযোগ দেওয়া হয় এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজও সংরক্ষণ করা হয়নি।
ঘটনাটি দীর্ঘদিন গোপন থাকলেও পরবর্তীতে অভিযুক্ত কনস্টেবল ইমতিয়াজের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর সিএমপির পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
অতিরিক্ত কমিশনার মো. ওয়াহিদুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটি তদন্ত শেষে গত ২৯ এপ্রিল ছয় পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে তৎকালীন পরিদর্শক তানভীর আহমেদ, এসআই আল-আমিন সরকার, এসআই আমির হোসেন এবং এএসআই সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে সরাসরি মাদক আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া এএসআই সাইফুল আলম, এএসআই জিয়াউর রহমান, এএসআই এনামুল হকসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে সহযোগিতা ও পরবর্তী সময়ে মিথ্যাচারের প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় ইতিমধ্যে কনস্টেবল থেকে পরিদর্শক পর্যায়ের মোট নয়জন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে। তবে তদন্তে গুরুতর অভিযোগ ওঠা সত্ত্বেও তৎকালীন ওসি আফতাব উদ্দিন শেখের বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করে তা গায়েব করা এবং আসামিকে ছাড় দেওয়ার ঘটনা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। এর পেছনে কোনো সংগঠিত চক্র বা আর্থিক লেনদেন রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে নবনিযুক্ত সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী জানান, কেন নিয়মিত মামলা হয়নি তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
ভিওডি বাংলা/রানা সাত্তার/এমএস






