• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

সংসদে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

ঢাকার দুই সিটিতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১২ পি.এম.
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনে জলাবদ্ধতা ও ডেঙ্গুর নিয়ন্ত্রণে সরকার বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে। এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা লাঘব ও ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এসব কথা জানান। এসময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

সোমবারের প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, যেসব কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে তার মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ: 

আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক প্রতি সপ্তাহে আওতাধীন প্রতিটি অঞ্চলে স্থানীয় জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালিত হচ্ছে; বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রতিনিয়ত সকাল-সন্ধ্যা মশার ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম অব্যাহত আছে। 

তাছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মশক নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। ওই মনিটরিং টিমের তত্ত্বাবধানে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হচ্ছে; ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসমূহে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনে জরিমানা আরোপ করা হচ্ছে। 

জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো, হাট-বাজার প্রভৃতি জনবহুল এলাকায় লিফলেট/মাইকিং কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এ সংক্রান্ত প্রচার অব্যাহত রয়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বল্পমেয়াদি কার্যক্রমের আওতায় হটস্পটগুলো চিহ্নিত করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

 ইতোমধ্যে সেগুনবাগিচা বক্স কালভার্ট, জিয়া সরণি ও কাজলা খাল পরিষ্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য খাল, বক্স কালভার্ট ও নর্দমা পরিষ্কার কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার স্থান হতে দ্রুত সময়ে বৃষ্টির পানি অপসারণের জন্য ইতোমধ্যে ৬টি পোর্টেবল পাম্প ক্রয় করা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণের পানি ৩টি আউটলেটের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হচ্ছে। বর্তমানে আরও ১টি আউটলেট নির্মাণের কার্যক্রম চলমান আছে এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে গুলিস্তান হতে সদরঘাট অংশে নতুন ১টি আউটলেট (বৃহৎ নর্দমা) নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। 

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োজিত করে সমীক্ষা ও সম্ভাব্যতা যাচাইপূর্বক প্রয়োজনীয়সংখ্যক আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে গৃহীত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা লাঘব ও ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে মর্মে আশা করা যায়।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপগুলো হলো–

প্রাক-বর্ষাকালীন (মার্চ-মে) সময়ে কিউলেক্স ও বর্ষাকালীন সময়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ।  ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্তকরণ এবং সমন্বিত মশক নিধন কার্যক্রম। সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম জোরদারকরণ।

জনসচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি। সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয়। সকালে লার্ভিসাইডিং ও প্রজনন স্থল অপসারণ/ধ্বংস। সন্ধ্যাকালীন ফগিং কার্যক্রম। কিউলেক্স মশা নিধনে ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে বন্ধ খাল-বিল, ড্রেন, নালা-নর্দমা ইত্যাদি হটস্পটগুলোতে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা ও ডিএনসিসির অন্তর্গত ৬০০০ (ছয় হাজার) বিঘা কচুরিপানা পূর্ণ জলাশয় পরিষ্কার করার কার্যক্রম।

‘শনিবারের অঙ্গীকার, নিজ নিজ বাসা-বাড়ি করি পরিষ্কার’ স্লোগানের আলোকে প্রতি শনিবার সকাল ৮-১২ ঘটিকা পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআর কর্তৃক প্রাপ্ত ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা (প্রতি শনিবারে কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম চলমান)। ডেঙ্গু বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা ও ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে মশার উৎপত্তিস্থল দূরীকরণে ৮ এপ্রিল-১২ এপ্রিল ২০২৬ ‘অপারেশন ক্লিন হোম: হেলদি লাইভস’ কর্মসূচির আওতায় ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ ২৫টি ওয়ার্ডে অভিযান পরিচালনা করা (৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যক্রম চলমান)। হসপিটাল সার্ভেইল্যান্সের মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগী আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ এবং এসব ঠিকানায় কুইক রেসপন্স টিমের মাধ্যমে বিশেষ মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা (২১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যক্রম শুরু হয়েছে)।

হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডেঙ্গু রোগী আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ এবং এসব ঠিকানায় মশক নিধন কার্যক্রম (২১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে)। বর্তমানে ব্যবহৃত রাসায়নিক কীটনাশকের পাশাপাশি অধিকতর কার্যকর জৈব কীটনাশক বিটিআই পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শেষে ক্রয় প্রক্রিয়াধীন আছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ডিএনসিসি কর্তৃক ব্যবহৃত কীটনাশকের মান যাচাইয়ের জন্য ৫টি স্বনামধন্য সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দৈবচয়ন ভিত্তিতে কীটনাশকের পরীক্ষা কার্যক্রম চলমান আছে। জনসচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততার লক্ষ্যে নতুন স্টিকার/লিফলেট, বুকলেট প্রস্তুত করা হয়, যা চলমান আছে। বর্ষা মৌসুমে সতর্কতামূলক বাল্ক এসএমএস প্রদান ও টিভি স্ক্রল প্রচার কার্যক্রম চলমান আছে। 

স্থানীয় সরকার বিভাগের টেকনিক্যাল কমিটির গাইডলাইন অনুযায়ী কীটনাশকের যথাযথ ব্যবহার এবং কার্যকারিতা নিয়মিতভাবে পরীক্ষা কার্যক্রম চলমান আছে।

ভিওডি বাংলা/এসআর

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
দেশের ২ লাখ ফ্রিল্যান্সার পাবেন পেপ্যাল কার্ড
দেশের ২ লাখ ফ্রিল্যান্সার পাবেন পেপ্যাল কার্ড
সংসদে ‘গুপ্ত’ শব্দ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা
সংসদে ‘গুপ্ত’ শব্দ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা
ঢাকার ৪০ ও দেশের ৪০০ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৫জি সেবা চালু
ঢাকার ৪০ ও দেশের ৪০০ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৫জি সেবা চালু