পাঁচ বছরে ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চিত্র বদলে দেবে ডিএসসিসি

রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে মাতুয়াইল সেনেটারি ল্যান্ডফিলকে রিসোর্স সার্কুলেশন পার্কে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। আগামী মাস থেকেই এ প্রকল্পের পাইলট কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ডিএসসিসি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বর্জ্য থেকে নির্গত ক্ষতিকর মিথেন গ্যাসকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেল উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় প্রতিদিন প্রায় ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে বর্জ্য থেকে সংগৃহীত মিথেন গ্যাসের মাধ্যমে। এছাড়া সৌরশক্তি থেকে আরও ৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া, মেটেরিয়াল রিকভারি ফ্যাসিলিটি স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে বায়োগ্যাস, জ্বালানি তেল, কম্পোস্ট এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ উৎপাদন করা হবে।
দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার বলেন, আমাদের নিয়মিত বর্জ্যই এখন জ্বালানিতে রূপান্তর করা হবে। বিদ্যমান ল্যান্ডফিলকে ইকোপার্ক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আমাদের জন্য বড় সুযোগ।
ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সফিউল্লাহ সিদ্দিক ভূঁইয়া জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বাজার বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
ডিএসসিসি ও কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান বি অ্যান্ড এফ কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বিনিয়োগ করবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানটি।
ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানান, আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি। সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা শিগগিরই আসবেন এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আনা শুরু হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিদিন প্রায় ৩২০০ থেকে ৩৫০০ টন বর্জ্য আধুনিক ব্যবস্থাপনার আওতায় আসবে। ১৫ বছর মেয়াদি এ প্রকল্প থেকে সিটি কর্পোরেশন লাভের ২০ শতাংশ পাবে বলে জানা গেছে।
ভিওডি বাংলা/এসআর







