ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস, দল ছাড়ছেন রিপাবলিকান নেতাকর্মীরা

মার্কিন রাজনীতিতে পাল্টে যাচ্ছে সমীকরণ—জনপ্রিয়তা কমছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের, বাড়ছে জ্বালানির দাম, আর দল ছাড়ছেন রিপাবলিকান নেতাকর্মীরা। এমন বাস্তবতায় মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে চাপে পড়েছে রিপাবলিকান পার্টি।
গত সোমবার প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের হাউস ডেমোক্র্যাটদের দখলে চলে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। একই সঙ্গে একসময় রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সিনেটও এখন হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ, ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা সব পর্যায়ে ব্যাপক তহবিল সংগ্রহে এগিয়ে আছেন, আর বিপরীতে রিপাবলিকানদের অনেক নেতাকর্মী দল ছাড়ছেন।
রিপাবলিকান কৌশলবিদরা বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘তিক্ত, কুৎসিত, খারাপ, হতাশাজনক’ বলে বর্ণনা করছেন। যদিও তারা আশা করছেন, নভেম্বরের আগেই পরিস্থিতি বদলাতে পারে—বিশেষ করে গ্যাসের দাম ৪ ডলার কমে আসা এবং ইরান যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার মতো কিছু ঘটনা ঘটলে।
রিপাবলিকান দলের সাবেক হাউস স্পিকার নিউট গিংরিচ বলেন, ‘নির্বাচন যদি মে মাসে হতো, তাহলে রিপাবলিকানরা হেরে যেত।’ তিনি দলীয় নেতাদের উদ্দেশে এই শরতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘জিততে হলে যুদ্ধ, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও পেট্রোলের দামের মতো বিষয়গুলোকে আগে পরিষ্কার করতে হবে। যদি এর পরিবর্তন না হয়, তাহলে হতাশায় নিজের চুল ছিঁড়তে শুরু করব।’
এদিকে জরিপগুলোতেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় পতনের ইঙ্গিত মিলছে। সিএনএন-এসএসআরএসের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, তার জন-অনুমোদন হার ৪১ শতাংশ। ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউর হিসেবে এটি ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ—যা অতীতের অনেক প্রেসিডেন্টের তুলনায় কম।
বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো তরুণ ও পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর মার্চের শেষ দিকে ম্যারিস্ট ও কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপেও একই প্রবণতা দেখা গেছে।
এ প্রসঙ্গে সিএনএনের রাজনৈতিক বিশ্লেষক হ্যারি এন্টেন বলেন, ‘একটু দেখুন, এতেই সব ফাঁস হয়ে যায়। আচ্ছা, ২০২৪ সালের নভেম্বরে পুরুষদের মধ্যে ট্রাম্পের অবস্থান– তিনি তাদের মধ্যে কমলা হ্যারিসকে ১৩ পয়েন্টে হারিয়েছেন। দেখুন, এখন তাঁর নেট অ্যাপ্রুভাল রেটিং কোথায়। তিনি নিচে নেমে গেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে এটি ২০ পয়েন্টের একটি পরিবর্তন। এ নির্দিষ্ট মুহূর্তে পুরুষদের মধ্যে তিনি এখন ৭ পয়েন্ট পিছিয়ে আছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আচ্ছা, এটা তো সামগ্রিকভাবে পুরুষদের কথা। কিন্তু সেই সব তরুণ পুরুষদের কী হবে, যারা সত্যিই প্রভাবশালী ছিলেন?’ তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, তরুণরা। অবশ্যই ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তরুণদের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে ব্যাপক সমর্থন বেড়েছিল। আর বর্তমান পরিস্থিতি দেখুন।’
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য ভালো ফল করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
ভিওডি বাংলা/এমএস







