• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

পশ্চিমবঙ্গে ভাঙছে তৃণমূলের ঘাঁটি? এক্সিট পোলে এগিয়ে বিজেপি

কলকাতা প্রতিনিধি    ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩২ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজ্যের সাতটি জেলায় এই দফায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছিল। দুই দফা মিলিয়ে ভোটপর্ব ঘিরে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা, যার প্রতিফলন দেখা গেছে ভোটার উপস্থিতিতেও।

এখন অপেক্ষা চূড়ান্ত ফলাফলের। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৪ মে ভোট গণনা অনুষ্ঠিত হবে এবং পরদিন ৫ মে ফলাফল প্রকাশ করা হতে পারে।
তবে ফল ঘোষণার আগেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘুরপাক খাচ্ছে একটি প্রশ্ন—মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি কি এবার ভাঙতে যাচ্ছে? নাকি প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গের মসনদে বসতে যাচ্ছে বিজেপি?

বুথফেরত সমীক্ষা বা এক্সিট পোলের প্রাথমিক ইঙ্গিত বলছে, এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে চারটি সংস্থা তাদের পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে তিনটি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। একটি সমীক্ষায় তৃণমূল কংগ্রেসকেও এগিয়ে রাখা হয়েছে, যা পুরো চিত্রটিকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে।
বিভিন্ন সমীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জাদুসংখ্যার কাছাকাছি। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ১৪৮টি আসন। এই হিসাবেই চলছে রাজনৈতিক অঙ্ক কষা।

পোলস্টার সংস্থা পি-মার্ক তাদের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, বিজেপি পেতে পারে ১৫০ থেকে ১৭৫টি আসন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা ১১৮ থেকে ১৩৮-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা। এই পূর্বাভাস সত্যি হলে রাজ্যে প্রথমবারের মতো বিজেপির সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত হবে।

অন্যদিকে ম্যাট্রিজ়ের বুথফেরত সমীক্ষায়ও বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, বিজেপি পেতে পারে ১৪৬ থেকে ১৬১টি আসন, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা স্পর্শ বা অতিক্রম করতে পারে। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ধরা হয়েছে ১২৫ থেকে ১৪০। একই সঙ্গে অন্যান্য দল মিলিয়ে ৬ থেকে ১০টি আসন পেতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই সমীক্ষায় বামফ্রন্ট বা কংগ্রেসের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের সম্ভাবনা খুব কম বলেই দাবি করা হয়েছে।

তবে সব সমীক্ষাই একমুখী নয়। কিছু পূর্বাভাসে তৃণমূল কংগ্রেসকে এগিয়ে রাখা হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে মাঠের লড়াই এখনও পুরোপুরি একপেশে নয়। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের চিত্র উঠে এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বুথফেরত সমীক্ষা অনেক সময় বাস্তব ফলাফলের সঙ্গে মেলে না। ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে এমন বহু উদাহরণ রয়েছে, যেখানে এক্সিট পোলের পূর্বাভাস পুরোপুরি ভুল প্রমাণিত হয়েছে। আবার এমন ঘটনাও আছে, যেখানে সমীক্ষা প্রায় নির্ভুলভাবে ফলাফল অনুমান করতে পেরেছে। ফলে এসব সমীক্ষাকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে না দেখে সম্ভাব্য প্রবণতা হিসেবে বিবেচনা করাই যুক্তিযুক্ত।

এবারের নির্বাচনে ভোটদানের হারও ছিল উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গে এবার ভোটের হার ৯০ শতাংশেরও বেশি হয়েছে, যা অতীতের অনেক নির্বাচনের তুলনায় বেশি। যদিও দ্বিতীয় দফার চূড়ান্ত ভোটের হার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবুও উচ্চ উপস্থিতি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার তীব্রতাকেই নির্দেশ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দ্বিতীয় দফায় সাত জেলার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট চলাকালে কিছু জায়গায় উত্তেজনা ও বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর পাওয়া গেলেও সার্বিকভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের এবারের নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের শক্ত ঘাঁটি ধরে রাখার লড়াইয়ে নেমেছে, অন্যদিকে বিজেপি প্রথমবারের মতো রাজ্যে ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে।

এখন সবকিছুর উত্তর মিলবে গণনার দিনেই। বুথফেরত সমীক্ষার পূর্বাভাস কতটা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়, সেটিই দেখার বিষয়।

ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান
দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান
ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়, রাজা চার্লসও একমত: ট্রাম্প
ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়, রাজা চার্লসও একমত: ট্রাম্প
ইরানের ৩৫ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
ইরানের ৩৫ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা