• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

কালকিনি কলেজে অব্যবস্থাপনা, শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে এই বিদ্যাপীঠ ধ্বংসের পথে

ডাসার (মাদারীপুর) প্রতিনিধি    ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৬ পি.এম.
ছবি-ভিওডি বাংলা

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার একসময়ের স্বনামধন্য ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান 'সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ' এখন অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, দীর্ঘদিনের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নির্ভরতা এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার কারণে ভেঙে পড়েছে কলেজটির শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এমন নাজুক পরিস্থিতিতে চরম উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাজমুন নাহার গত চার বছর ধরে বিভাগীয় অফিস ও ক্লাসে অনুপস্থিত থাকছেন। এই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্বয়ং ওই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এস এম জলিল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত কলেজে না এসেও কেবল হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান এবং নিয়মিত বেতন তুলছেন। যদিও অভিযুক্ত শিক্ষিকা নাজমুন নাহার দাবি করেছেন, শিক্ষার্থী না থাকায় তিনি ক্লাস নিতে পারছেন না, তবে তিনি নিয়মিত হাজিরা দেন।

১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি একসময় জাতীয় পর্যায়ে সুনাম কুড়ালেও বর্তমানে এর অনার্স শাখার অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। সরেজমিনে দেখা যায়, ১২টি বিভাগের মধ্যে দু-একটি বাদে বাকি সবগুলোর অবস্থা নাজুক। ৫-৬ জন শিক্ষকের বিপরীতে কোনো কোনো বিভাগে চলতি বছর মাত্র ১ থেকে ৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। এছাড়া কলেজ চলাকালীন সকাল সাড়ে ১১টাতেও অনেক বিভাগের তালা খুলতে দেখা যায়নি। শিক্ষকরা ক্লাসে না থেকে বাইরের দোকানে আড্ডায় ব্যস্ত থাকছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাবেক অধ্যক্ষ মো. খালেকুজ্জামানের অবসরের পর থেকেই সংকটের শুরু। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ৬ জন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দায়িত্ব পালন করায় প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। শিক্ষকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে একাধিক গ্রুপ। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সাথে সাধারণ শিক্ষকদের সমন্বয়হীনতা এবং স্বেচ্ছাচারিতা প্রতিষ্ঠানটিকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

কলেজের বিদ্যোৎসাহী সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বেপারী বলেন, "শিক্ষক রাজনীতির কারণে শিক্ষার মান আজ তলানিতে। প্রতিষ্ঠানের গৌরব ফেরাতে হলে শিক্ষকদের দলাদলি পরিহার করতে হবে।"

বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হান্নান দরিয়া অব্যবস্থাপনার কথা স্বীকার করে বলেন, "আমি চার মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছি। শিক্ষার্থী বাড়াতে নানা পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত শিক্ষিকা নাজমুন নাহারের চার বছর অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি গভর্নিং বডি (জিবি) মিটিংয়ে উত্থাপন করা হবে।"

কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল আরেফিন জানান, "জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি শিক্ষকদের সাথে কথা বলেছি। নিয়মিত অধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা রয়েছে যা আগামী মে মাসে নিরসন হতে পারে। অভিযুক্ত শিক্ষিকা নাজমুন নাহারের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

ঐতিহ্যবাহী এই কলেজের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পূর্ণকালীন দক্ষ অধ্যক্ষ নিয়োগ এবং শিক্ষকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ভিওডি বাংলা/তুহিন মৃধা/জা


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
জলাবদ্ধতায় ডুবেছে গৌরীপুরের বোরো ক্ষেত, বিপাকে শতাধিক কৃষক
জলাবদ্ধতায় ডুবেছে গৌরীপুরের বোরো ক্ষেত, বিপাকে শতাধিক কৃষক
মধুপুরে নারী ও কিশোরীদের অধিকার সুরক্ষায় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
মধুপুরে নারী ও কিশোরীদের অধিকার সুরক্ষায় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
রাসিক প্রশাসকের নওদাপাড়া বাজারসহ উন্নয়নকাজ পরিদর্শন
রাসিক প্রশাসকের নওদাপাড়া বাজারসহ উন্নয়নকাজ পরিদর্শন