জলাবদ্ধতায় ডুবেছে গৌরীপুরের বোরো ক্ষেত, বিপাকে শতাধিক কৃষক

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় টানা বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ২০০ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এলাকার কয়েক শ' কৃষক।
স্থানীয়রা জানান, অতিবৃষ্টির পাশাপাশি অপরিকল্পিত পুকুর খনন এবং খাল-বিলে কৃত্রিম বাঁধ দেওয়ার ফলে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে কৃষি উৎপাদনে।

উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের কোণাপাড়া, সাহাবাজপুর, ইছুলিয়া, শালীহর এবং মাওহা মইলাকান্দা, অচিন্তপুর ও সিধলা ইউনিয়নের বিভিন্ন বিল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পানিতে ডুবে আছে বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত। আধাপাকা ধান রক্ষায় কৃষকরা কেউ হাঁটু, কেউ বুকসমান পানিতে নেমে, আবার কেউ নৌকা ব্যবহার করে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। অনেকেই অসহায়ভাবে ফসলের ক্ষতি দেখছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, সময়মতো ধান কাটার জন্য শ্রমিক না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে কম্বাইন হারভেস্টার চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করায় খরচ বেড়ে গেছে।
কোণাপাড়া গ্রামের কৃষক সাজেদা বলেন, “আগাম বৃষ্টি আর শ্রমিক সংকট-দুই কারণে আমাদের ধান পানির নিচে চলে গেছে। এখন সবকিছু অনিশ্চিত।”
সাহাবাজপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রউফ দুদু জানান, জলাবদ্ধতার কারণে ধান ঘরে তুলতে পারছি না। তার ওপর যন্ত্র দিয়ে কাটাতে গেলে বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে, এতে আমরা দ্বিগুণ ক্ষতির মুখে পড়েছি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গৌরীপুরে ২০ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮৮ হাজার ৪৩০ মেট্রিক টন। তবে সাম্প্রতিক দুর্যোগে ইতোমধ্যে ২০০ হেক্টরের বেশি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, “ঋণ নিয়ে চাষ করা কৃষকরা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন। অবৈধ বাঁধ ও অপরিকল্পিত পুকুর খননের কারণেই মূলত জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।”
তিনি দ্রুত সরকারি সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাফরোজা সুলতানা বলেন, জলাশয়ে পুকুর খনন বা বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে আইনগত নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক। কেউ যদি অবৈধভাবে পানি প্রবাহ বন্ধ করে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন জলি জানান, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতি হলেও পানি দ্রুত নেমে গেলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। কৃষকদের অবশিষ্ট ফসল দ্রুত কাটার জন্য মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/মো. হুমায়ুন কবির/জা







