পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের অগ্রগতি জাতিসংঘে তুলে ধরলেন সচিব

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং বিভিন্ন জাতিসত্তার সংস্কৃতি সংরক্ষণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ জাতিসংঘে তুলে ধরেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে চলমান আদিবাসী বিষয়ক জাতিসংঘের স্থায়ী ফোরামের (UNPFII) ২৫তম অধিবেশনে গত ২৯ এপ্রিল তিনি এসব তথ্য উপস্থাপন করেন। অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পার্বত্য অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয়।
বক্তব্যে সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, লিঙ্গ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ধারাগুলো একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মোট ৭২টি ধারার মধ্যে ইতোমধ্যে ৬৫টি ধারা সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি ৩টি ধারা আংশিকভাবে এবং ৪টি ধারা বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো আলোচনার মাধ্যমে সকল পক্ষকে সম্পৃক্ত করে অবশিষ্ট কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করা।
পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগও জাতিসংঘের মঞ্চে তুলে ধরেন সচিব। তিনি বলেন, ভূমি জরিপ কার্যক্রম আধুনিকায়ন এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ সমাধানের কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় একজন বিশেষ সহকারী নিয়োগ করা হয়েছে, যা বিভিন্ন জাতিসত্তার প্রতিনিধিত্ব আরও সুসংহত করবে।
সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল সংযোগ বৃদ্ধি এবং জীবিকার বৈচিত্র্যায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংস্কৃতি ও ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সচিব বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও ভাষা রক্ষায় বহুভাষিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ বৃত্তি, ই-লার্নিং কার্যক্রম এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতাল এবং মোবাইল মেডিকেল টিম সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে এই উদ্যোগগুলো পাহাড়ি অঞ্চলের জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় ২০ লাখ বৃক্ষরোপণের একটি বৃহৎ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগ পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ২০ এপ্রিল থেকে ১ মে ২০২৬ পর্যন্ত দুই সপ্তাহব্যাপী এই ২৫তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ বিষয়ে আলোচনা করছেন।
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। দলে আরও রয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ফোরামে পার্বত্য চট্টগ্রামের অগ্রগতি উপস্থাপন বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা বহন করছে।
ভিওডি বাংলা/জা







