ছুটির দিনে দর্শনার্থীর ভিড়ে মুখর রমনা পার্ক

ইট-পাথর আর কংক্রিটে ঘেরা ব্যস্ত নগর জীবনে খোলা ও সবুজ জায়গা দিন দিন কমে আসছে। ফলে একটু স্বস্তি আর প্রশান্তির খোঁজে সুযোগ পেলেই রাজধানীবাসী ছুটে যান উন্মুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে। মহান মে দিবসের ছুটি ও শুক্রবারের সাপ্তাহিক অবকাশ একসঙ্গে পড়ায় সেই সুযোগ কাজে লাগাতে রাজধানীর অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র রমনা পার্কে নেমেছিল মানুষের ঢল।
শুক্রবার (১ মে) সকাল থেকেই পার্কে আসতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা। পরিবার-পরিজন, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে অনেকেই সময় কাটাতে ভিড় জমান। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই ভিড় আরও বাড়তে থাকে, আর বিকেলের দিকে পুরো পার্কজুড়ে তৈরি হয় উপচে পড়া জনসমাগম। শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণ-সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে প্রাণ ফিরে পায় পুরো এলাকা।
পার্কের সবুজ ঘাস, ছায়াঘেরা গাছপালা আর খোলা পরিবেশে ছিল এক স্বস্তিদায়ক আবহ। কোথাও বন্ধুবান্ধবের আড্ডা, কোথাও পরিবারের সঙ্গে নিরিবিলি সময় কাটানো, আবার কোথাও প্রিয়জনের সঙ্গে গল্পে মেতে উঠতে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের। তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটিয়ে মানসিক প্রশান্তি খুঁজেছেন।
রমনা পার্কের লেকপাড়ের হাঁটার ডেক এখন দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। কাঠের তৈরি এই ডেকজুড়ে ছিল মানুষের ভিড়। কেউ স্মৃতিবন্দি করতে ছবি তুলেছেন, কেউবা নীরবে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেছেন লেকের সৌন্দর্য ও চারপাশের সবুজ পরিবেশ।
রাজধানীর রামপুরা থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে আসা রাজিব ও মাহমুদা দম্পতি জানান, ব্যস্ততার কারণে সাধারণত সন্তানদের নিয়ে বাইরে বের হওয়ার সুযোগ খুব কমই হয়। ছুটির দিন পাওয়ায় তারা রমনা পার্কে এসেছেন এবং পরিবারের সবাই মিলে সময়টা উপভোগ করছেন।
একইভাবে ধানমন্ডি থেকে সন্তানকে নিয়ে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রহিমা খাতুন বলেন, “রমনা পার্কের পরিবেশ খুবই সুন্দর ও খোলামেলা। চারপাশে সবুজ থাকায় শিশুদের ভালো লাগে। দুপুরে ভিড় কিছুটা কম থাকলেও বিকেলে পা ফেলার জায়গা ছিল না।” তিনি আরও জানান, শিশুদের জন্য থাকা বিনা মূল্যের রাইডও দর্শনার্থীদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে।
এদিকে ডেমরা থেকে ঘুরতে আসা সবুজ আলী বলেন, চাকরির কারণে ছুটি কম মেলে, তাই দূরে কোথাও যাওয়া সম্ভব হয় না। ঢাকার মধ্যেই অবসর কাটাতে হয়। “একসময় বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত এখানে আড্ডা দিতাম। এখন খুব একটা আসা হয় না। তবে আগের চেয়ে পার্কটি এখন অনেক বেশি সুন্দর ও পরিপাটি হয়েছে,” যোগ করেন তিনি।
ভিওডি বাংলা/জা







