নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে ফিরেছে জেলেরা, মিলছে না আশানুরূপ ইলিশ

দুই মাসের জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচির নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে ফের মাছ শিকারে নেমেছেন জেলেরা। তবে শুরুতেই আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় হতাশা দেখা দিয়েছে মতলব উত্তর উপজেলার জেলেপাড়াগুলোতে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত ১২টার পর থেকেই জাল ও নৌকা নিয়ে নদীতে নামেন হাজারো জেলে। কিন্তু প্রথম ও দ্বিতীয় দিনেই জালে তেমন ইলিশ না ওঠায় অনেকেই খালি হাতে ঘাটে ফিরছেন।
শনিবার (২ মে) সকাল থেকে মতলব উত্তরের আমিরাবাদ, ষাটনল ও এখলাসপুর মৎস্য আড়তে দীর্ঘদিন পর পাইকারি মাছ বেচাকেনা শুরু হলেও সরবরাহ কম থাকায় পুরোপুরি জমে ওঠেনি বেচাকেনা। কোথাও কোথাও আবার আড়তে দেখা গেছে একপ্রকার নীরবতা।
আমিরাবাদ আড়তের মাছ ব্যবসায়ী মো. সাঈদ হোসেন বলেন, সকাল থেকে বসে আছি, কিন্তু ইলিশ নেই বললেই চলে। জেলেরা মাছ পাচ্ছে না, তাই আড়তও জমছে না।
ষাটনল মৎস্য আড়তের মাছ ব্যবসায়ী ফুলচান বর্মন বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে আড়তে বেচাকেনা শুরু হলেও ইলিশের সরবরাহ এখনো কম। তিনি আশা করেন, কয়েকদিনের মধ্যে নদীতে মাছ বাড়লে আড়ত আবার জমে উঠবে।
জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষে অনেক আশা নিয়ে নদীতে নামলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল ফেলেও তেমন মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। আমিরাবাদ এলাকার জেলে বিল্লাল, আয়নাল ও কাইল্ল্যা বলেন, দুই মাস বসে ছিলাম। এখন নদীতে নামলেও মাছ না পেলে কিস্তি ও ধারদেনা শোধ করা কঠিন হয়ে যাবে।
অন্যদিকে বাজারে কম সরবরাহের কারণে ইলিশের দাম বেশ চড়া। ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং ছোট আকারের ইলিশ ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মতলব উত্তর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস বলেন, দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এখন শুরুতে ইলিশ কম পাওয়া স্বাভাবিক। জাটকা বড় হয়ে ইলিশে রূপান্তর হলে অচিরেই এর সুফল পাওয়া যাবে।







