ঘন ঘন হেয়ার ডাই কি সত্যিই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে?

বর্তমান সময়ে তরুণদের মধ্যে চুলে বিভিন্ন রঙ করার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। কেউ সোনালি, কেউ বাদামি, আবার কেউ বেছে নিচ্ছেন বারগেন্ডি, নীল বা লাল রঙ। প্রাকৃতিক কালো চুলের পরিবর্তে ফ্যাশন ও স্টাইলের অংশ হিসেবে কৃত্রিম রঙ এখন অনেকের কাছে জনপ্রিয়। এতে চেহারায় নতুনত্ব আসে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ে বলেও মনে করেন অনেকে। পাশাপাশি পাকা চুল ঢাকার জন্যও নিয়মিত হেয়ার ডাই ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে প্রশ্ন উঠছে-এই ঘন ঘন চুলে রঙ করার অভ্যাস কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর? বিশেষ করে ক্যানসারের ঝুঁকি কি এতে বাড়ে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে পাওয়া হেয়ার ডাইগুলোতে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা চুলের স্বাভাবিক গঠনকে প্রভাবিত করতে পারে। এসব কেমিক্যাল দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে চুলের গোড়ার স্বাভাবিক রঞ্জক পদার্থ মেলানিনের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে এসব রাসায়নিক মাথার ত্বকে জ্বালা, অ্যালার্জি বা অন্যান্য চর্মরোগের কারণ হতে পারে।
চিকিৎসকদের একাংশ জানান, কিছু হেয়ার ডাইয়ে ফর্মালডিহাইডসহ বিভিন্ন কেমিক্যাল উপাদান থাকতে পারে, যেগুলোকে কার্সিনোজেনিক বা ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে ধরা হয়। তবে তারা এটিও স্পষ্ট করেন যে, স্বাভাবিক ব্যবধানে-যেমন ১ থেকে ২ মাস পর পর চুলে রঙ করলে ক্যানসারের ঝুঁকি খুব বেশি নয়।
তাদের মতে, ঝুঁকি বেশি দেখা যেতে পারে মূলত দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত পরিমাণে কেমিক্যালের সংস্পর্শে এলে। বিশেষ করে যারা পেশাগতভাবে পার্লারে কাজ করেন এবং প্রতিদিন বহুবার হেয়ার ডাই ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, পার্লার কর্মীদের অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। হেয়ার ডাই ব্যবহারের সময় গ্লাভস ব্যবহার করা জরুরি। পাশাপাশি সেলুনে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকা দরকার, যাতে কেমিক্যালের প্রভাব কমানো যায়।
ভিওডি বাংলা/জা







