১৪১ স্থান চিহ্নিত
দুই সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসনে বিশেষ উদ্যোগ

আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে দুই সিটি করপোরেশন। শহরের ১৪১টি স্থানকে জলাবদ্ধতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অধীনে ১০৮টি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অধীনে ৩৩টি এলাকা রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল সাময়িক ব্যবস্থা নয়, খালের সংযোগ পুনরুদ্ধার ও সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে ডিএসসিসি প্রতিটি ওয়ার্ডে জরুরি প্রতিক্রিয়া দল গঠন করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পানির পাম্পের সংখ্যা বাড়িয়ে আটটি করা হয়েছে। বিশেষ করে নিউ মার্কেট, ধানমন্ডি ও রাজারবাগ এলাকার জন্য ২৫০-৩০০ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।
ডিএনসিসি মিরপুর এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সাংবাদিক খাল, বাউনিয়া খাল ও কল্যাণপুর খালের খননকাজ চলছে।
ডিএনসিসির লক্ষ্য হলো ভারি বৃষ্টির এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে পানি নিষ্কাশন করা। এ ছাড়া গভীর নর্দমা পরিষ্কারে রোবোটিক প্রযুক্তি ব্যবহারের চিন্তাভাবনা চলছে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, জলাবদ্ধতা সমস্যার মূল কারণগুলো হলো ছোট নালাগুলোর সঙ্গে প্রধান খাল বা নির্গমন পথের সঠিক সংযোগ নেই। ফলে পানি সরতে পারছে না।
পরিষ্কার করার পরেও খাল ও নালাগুলো দ্রুত ময়লায় আটকে যাচ্ছে এবং অনেক জায়গায় পয়ঃনিষ্কাশন পথ দখল হয়ে গেছে।দক্ষিণখান ও উত্তরখানের মতো অনেক এলাকায় পানি বের হওয়ার কোনো পথই রাখা হয়নি।
ডিএসসিসির সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ড. মোহাম্মদ শফিউল্লাহ বলেন, করপোরেশন ৩৩টি হটস্পট এলাকা চিহ্নিত করেছে এবং এর প্রকৌশল ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগকে নিয়ে ওয়ার্ড-ভিত্তিক জরুরি প্রতিক্রিয়া দল গঠন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাশাপাশি নর্দমা পরিষ্কারের কাজে ঠিকাদারদেরও নিযুক্ত করা হয়েছে।
ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান বলেন, ডিএনসিসির লক্ষ্য হলো ভারী বৃষ্টিপাতের পর এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে লক্ষ্যভুক্ত এলাকাগুলোতে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করা।
প্রধান প্রকৌশলীর মতে, কল্যাণপুর ও টোলারবাগ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও খনন কাজ চলছে এবং কাদা ও আবর্জনা জমা রোধ করতে কর্মীদের ধারাবাহিকভাবে সক্রিয় রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ প্ল্যানার্সের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ফজলে রেজা সুমন ও অধ্যাপক আদিল মোহাম্মদ খান জানিয়েছেন, ৮০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে বর্তমান ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। তাদের মতে, বিচ্ছিন্নভাবে কাজ না করে দুই সিটি করপোরেশনের একটি সমন্বিত মাস্টার প্ল্যান বা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা জরুরি। সেই সাথে নর্দমায় ময়লা না ফেলার জন্য জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিয়েছেন তারা।
রাকিবুল বলেন, সঠিক নকশা ও বিন্যাস অনুযায়ী খাল পুনরুদ্ধারসহ দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প প্রয়োজন। ‘আমরা চিরকাল অস্থায়ী পদ্ধতি নিয়ে চলতে পারি না। খাল নেটওয়ার্কের স্থায়ী পুনরুদ্ধার প্রয়োজন’, যোগ করেন তিনি।
ভিওডি বাংলা/এসআর







