ছয় মাসেই ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন নগরীতে রূপান্তর সম্ভব : আবদুস সালাম

সবাই একসঙ্গে চেষ্টা করলে ছয় মাসের মধ্যেই ঢাকা মহানগরীকে পরিচ্ছন্ন নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতনতার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই ঢাকা মহানগরীকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও সবুজ নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব।
শনিবার (৯ মে) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী “ক্লিনিং ডে” কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মালিবাগ এলাকায় অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য হস্তান্তর কেন্দ্র (এসটিএস) নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, ঢাকা শহরের যেসব স্কেল ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ছিল, সেগুলোর অনেকগুলোই অস্বাস্থ্যকর ছিল। সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ত। তাই এগুলো আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত করতে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। কলাবাগানে প্রথম সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করেছি, এখন দ্বিতীয়টি করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো শহরের সব স্কেল আধুনিক করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ না করলে কোনো উদ্যোগই সফল হবে না। সে কারণেই প্রতি মাসের প্রথম শনিবার সারা ঢাকা শহরে ‘ক্লিনিং ডে’পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসক জানান, ওইদিন রাজধানীর প্রতিটি বাড়ি, অফিস, আদালত, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ ও মার্কেটে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে নগরবাসী, ব্যবসায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে মানুষ সচেতন হয়। আমরা চাই, আপনারা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের বার্তাগুলো সবার কাছে পৌঁছে দেন।
তিনি বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, রেড ক্রিসেন্ট ও বিডি ক্লিনের সদস্যদের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “সবাই একসঙ্গে চেষ্টা করলে ছয় মাসের মধ্যেই ঢাকা মহানগরীকে পরিচ্ছন্ন নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।”
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে মো. আবদুস সালাম বলেন, “মশাবাহিত রোগ থেকে বাঁচতে এখন থেকেই বাড়িঘর ও আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে পারলে মশাও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সিটি করপোরেশন ৫০ শতাংশ দায়িত্ব পালন করবে, আর বাকি ৫০ শতাংশ দায়িত্ব নিতে হবে নগরবাসীকে। সবাই সচেতন হলে ঢাকা শহরে আর আবর্জনা থাকবে না।”
ফুটপাত ও সড়ক দখল করে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনাকারীদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে যারা ব্যবসা করেন, তারাই মূলত পরিবেশ বেশি অপরিচ্ছন্ন করেন। তাই সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।”
বিভিন্ন স্থানে নির্ধারিত স্কিপ ও বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নাগরিকদের যত্রতত্র ময়লা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ফেলার আহ্বান জানান তিনি।
প্রশাসক বলেন, “আমাদের হাতগাড়ি ও ট্রলি রয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সেখান থেকে নিয়মিত ময়লা সংগ্রহ করে নিয়ে যাবে। আমরা শুধু পরিচ্ছন্ন শহরই নয়, গাছপালা লাগিয়ে একটি ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ গড়ে তুলতে চাই।”
শেষে তিনি সাংবাদিক, রেড ক্রিসেন্ট, বিডি ক্লিন এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিকে ধন্যবাদ জানান।
পরে তিনি মালিবাগ হয়ে শান্তিনগর হয়ে বেইলি রোড সংলগ্ন সিদ্ধেশ্বরী হাই স্কুল এলাকার আশপাশ পরিদর্শন করেন এবং নিজ হাতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।
ভিওডি বাংলা/বিন্দু







