{# Both bootstrap.min.css (190KB) and style.css (129KB) async-loaded via preload + onload swap. Inline critical CSS above covers above-the-fold. #} {# Third-party scripts: GA / ShareThis / Cloudflare on idle. AdSense is special — show_ads_impl_fy2021.js was eating 2.1s CPU, so it loads ONLY when an ad slot is near the viewport. #}
  • ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

গাজীপুরে ৫ খুন, সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য

কাপাসিয়া (গাজিপুর) প্রতিনিধি    ৯ মে ২০২৬, ০১:১০ পি.এম.
রাউৎকোনা গ্রামে পাঁচজনকে হত্যার পর ঘটনাস্থলে পুলিশের তৎপরতা ও আলামত সংগ্রহের দৃশ্য। ছবি-ভিওডি বাংলা

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। অভিযুক্ত ট্রাকচালক মো. ফোরকান মিয়া (৪০) হত্যাকাণ্ডের পর এক আত্মীয়কে ফোন করে নিজেই ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার (৮ মে) রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে ভাড়া বাসায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। পরদিন শনিবার সকালে পাঁচজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতরা হলেন- ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন খানম (৪০), তিন মেয়ে মিম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২), এবং শ্যালক রসুল (২২)। গাজীপুরে ৫ খুনের ঘটনায় জানা যাচ্ছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

জানা গেছে, শারমিন খানম গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকান্দি গ্রামের মো. শাহাদাত মোল্যার মেয়ে। অভিযুক্ত ফোরকানও একই জেলার মেরি গোপীনাথপুর এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তারা গাজীপুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

আরও পড়ুন: গাজীপুরে ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাউৎকোনা গ্রামের একটি বাড়িতে প্রবাসী মনির হোসেনের মালিকানাধীন বাসায় গত চার মাস ধরে ভাড়া থাকছিল পরিবারটি। সেখানেই ঘটে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড।

পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাত অনুযায়ী, স্ত্রী শারমিনকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। অন্য চারজনকে ঘরের ভেতরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

ঘটনাস্থল থেকে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। মরদেহগুলো যেখানে পড়েছিল, সেসব স্থানের পাশে প্রিন্ট করা কিছু কাগজ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো কোনো মামলার নথিপত্র বা গুরুত্বপূর্ণ দলিল হতে পারে।

এছাড়া বাসাটি তল্লাশি করে মাদক সেবনের কিছু আলামতও উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিষয়টি হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।

নিহত শারমিনের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ফোরকান তার স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করতেন। এ নিয়েই পরিবারে বিরোধ চলছিল বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

শারমিনের চাচি ইভা রহমান বলেন, “অনেকদিন ধরে মেয়েটাকে যৌতুকের জন্য মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। আমরা ধারণা করছি, মাদক সেবনের কারণেও সে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটাতে পারে।”

নিহতদের স্বজন মনির হোসেন দাবি করেন, শ্যালক রসুলকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাসায় ডেকে আনা হয়।

তিনি বলেন, “রসুলকে ফোন করে চাকরির কথা বলে ডেকে আনে ফোরকান। এরপর একই সঙ্গে পাঁচজনকে হত্যা করা হয়। এমন ঘটনা আমরা কখনো কল্পনাও করিনি।”

ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ফোরকান পালিয়ে যান। তবে তিনি পরে এক আত্মীয়কে ফোন করে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, “ঘাতক ফোরকান ফোনে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে একাধিক সংস্থা কাজ করছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”

এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো কাপাসিয়া ও গাজীপুর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, একই পরিবারের পাঁচজনকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করার ঘটনা তারা আগে কখনো দেখেননি।

ঘটনার পর বাড়িটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ। সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফরেনসিক দল আলামত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
লোহাগড়ায় সাবেক ইউপি মেম্বারকে কুপিয়ে জখম
লোহাগড়ায় সাবেক ইউপি মেম্বারকে কুপিয়ে জখম
দেশে পৌঁছেছে বৃষ্টির মরদেহ, জানাজা বাদ আসর
দেশে পৌঁছেছে বৃষ্টির মরদেহ, জানাজা বাদ আসর
দোহারে ৩ সন্তানকে বাঁচিয়ে আগুনে প্রাণ গেল দম্পতির
দোহারে ৩ সন্তানকে বাঁচিয়ে আগুনে প্রাণ গেল দম্পতির