সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ধজনগর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ছোড়া গুলিতে এক কলেজছাত্রসহ দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ বর্তমানে বিএসএফের হেফাজতে রয়েছে। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন কাজ শুরু করেছে।
নিহতরা হলেন-কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর বাতানবাড়ি এলাকার হেবজু মিয়ার ছেলে মো. মোরছালিন (২০) এবং একই ইউনিয়নের মানিক্য মুড়ি গ্রামের নবীর হোসেন। মোরছালিন স্থানীয় শাহআলম ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
আরও পড়ুন: বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত, আহত ২০
শুক্রবার (৯ মে) বিজিবির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১১টার দিকে সীমান্তের ভারতীয় অংশে এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়-একদল বাংলাদেশি চোরাকারবারি ভারতীয় সহযোগীদের সহায়তায় সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। পরে চোরাই মালামাল নিয়ে ফেরার সময় বিএসএফের টহল দলের মুখোমুখি হয় তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিএসএফের ৫৯ ব্যাটালিয়নের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের সদস্যরা ওই দলকে বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা ছররা বন্দুক থেকে গুলি ছোড়ে। এতে মোরছালিন ও নবীর হোসেন গুরুতর আহত হন।
পরে আহত অবস্থায় তাদের ভারতের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয় বলে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ বিজিবিকে জানিয়েছে।
ঘটনার পরপরই বিজিবির ৬০ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। নিহতদের মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে দুই বাহিনীর মধ্যে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি বিএসএফকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজিবির ৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এম. শরিফুল ইসলাম বলেন, বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ভারতের হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বিএসএফের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
এদিকে নিহত কলেজছাত্র মোরছালিনের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়রা জানান, মোরছালিন শান্ত স্বভাবের তরুণ ছিলেন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারকেও সহযোগিতা করতেন।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/জা







