গণভোটের রায় উপেক্ষা করা জনগণের সঙ্গে ‘প্রতারণা’: গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, গণভোটের ফলাফলকে উপেক্ষা করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তার দাবি, ‘জুলাই সনদ’ এবং গণভোটকে আলাদা করে উপস্থাপন করে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।
শনিবার (৯ মে) সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে দলের একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে রওনা হন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জনগণ গণভোটের মাধ্যমে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব এবং সাংবিধানিক পরিবর্তনের বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে মত দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার সমর্থন জানিয়েছিলেন, যেখানে কোনো ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ছিল না।
তিনি অভিযোগ করেন, এত বড় জনমত পাওয়া সত্ত্বেও এখন সরকার সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে স্পষ্ট অবস্থান নিচ্ছে না। বরং গণভোটের ফলাফল ও জুলাই সনদকে পৃথকভাবে ব্যাখ্যা করে বিষয়টি জটিল করে তোলা হচ্ছে বলে তাঁর মন্তব্য।
জামায়াত নেতা আরও বলেন, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা-প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীসহ-গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারা সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছেন, যা জনগণের আস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, দেশে চলমান রাজনৈতিক সংকট তৈরির পেছনে বিএনপির ভূমিকা রয়েছে। তাই সমাধানের দায়িত্বও তাদেরই নিতে হবে। তাঁর মতে, ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দায় শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দলের ওপরই বর্তাবে।
উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন বৈষম্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, যেসব এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব রয়েছে, সেখানেই বেশি উন্নয়ন ও বরাদ্দ যাচ্ছে। ফলে অন্যান্য অঞ্চল অবহেলিত থেকে যাচ্ছে। এটি ন্যায্যতার পরিপন্থী বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বিশেষভাবে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার দাবি জানান। পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি।
গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে এখনো সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। তাঁর অভিযোগ, সরকারের সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশের কারণে কিছু গণমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, এমনকি সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করার ঘটনাও ঘটছে।
তিনি আরও বলেন, এক সময় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি উঠেছিল, কিন্তু এখনো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং ভিন্নমত দমন করার প্রবণতা বাড়ছে বলে তাঁর মন্তব্য।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শীর্ষ নেতারা ছিলেন।
মতবিনিময় শেষে তিনি দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হন।
ভিওডি বাংলা/জা







