পাকিস্তানে গাড়িবোমা হামলা, ২১ পুলিশ নিহত

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি পুলিশ চৌকিতে গাড়িবোমা হামলা এবং পরে তীব্র গোলাগুলিতে অন্তত ২১ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে। দেশটির পুলিশ ও নিরাপত্তা সূত্র গণমাধ্যমকে এ খবর জানিয়েছে।
রোববার (১০ মে) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার রাতে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু জেলায় এ হামলার দায় স্বীকার করেছে ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান নামে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি জোট।
পুলিশ কর্মকর্তা জাহিদ খান জানান, এক আত্মঘাতী হামলাকারী ও কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি নিরাপত্তা চৌকির কাছে বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং বিস্ফোরণের তীব্রতায় চৌকিটি ধসে পড়ে।
হামলার পরের ছবিতে দেখা যায়, পুলিশ চৌকিটি সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চারদিকে ছড়িয়ে আছে ইট-পাথর, পোড়া ধ্বংসাবশেষ এবং দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া যানবাহন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি পুলিশ চেকপোস্টে আঘাত হানে। বিশাল বিস্ফোরণে ভবনের অধিকাংশ অংশ ধসে পড়ে। এরপর চেকপোস্টে হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ২১ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। এ ঘটনায় আহত অন্তত তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন,অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সাহায্যের জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর ওত পেতে হামলা চালায়, ফলে আরও হতাহতের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, হামলায় ড্রোনও ব্যবহার করা হয়েছে। বিস্ফোরণে আশপাশের বেসামরিক এলাকাও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত দুইজন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মধ্যে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। পাকিস্তান তখন আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালায়, যা ইসলামাবাদের দাবি অনুযায়ী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটি লক্ষ্য করে করা হয়েছিল।
এরপর সংঘাত কিছুটা কমলেও সীমান্ত এলাকায় মাঝে-মধ্যেই গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি হয়নি।
ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তান সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে, যারা আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলার পরিকল্পনা করছে। তালেবান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তানের সশস্ত্র বিদ্রোহ দেশটির অভ্যন্তরীণ সমস্যা।
তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো অতীতেও একই ধরনের হামলা চালিয়েছে। টিটিপি আলাদা সংগঠন হলেও আফগান তালেবানের আদর্শের সঙ্গে তাদের মিল রয়েছে। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে এ ধরনের হামলা বেড়েছে।
ভিওডি বাংলা/এসআর







