বিজয়ের শপথে স্ত্রী-সন্তানের অনুপস্থিতি ঘিরে তীব্র আলোচনা

থালাপতি বিজয়ের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। জাঁকজমকপূর্ণ এই আয়োজনেও তার স্ত্রী ও সন্তানদের অনুপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রোববার (১০ মে) সকালে চেন্নাইয়ে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শপথ গ্রহণ করেন তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) প্রধান থালাপতি বিজয়।
এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত ছিলেন তার বাবা এসএ চন্দ্রশেখর, মা শোভা চন্দ্রশেখর, পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ বন্ধু, দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানকেও দেখা গেছে, যার সঙ্গে বিজয়ের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গুঞ্জন রয়েছে।
তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বিজয়ের স্ত্রী সঙ্গীতা সোর্নালিঙ্গম এবং তাদের দুই সন্তান—জেসন সঞ্জয় ও দিব্যা সাশার অনুপস্থিতি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করছেন ব্যবহারকারীরা। অনেকেই বলছেন, এমন ঐতিহাসিক মুহূর্তে পরিবারের অনুপস্থিতি দৃশ্যটিকে ‘অপূর্ণ’ করে তুলেছে।
একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, বিজয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী তৃষা উপস্থিত। অন্যদিকে, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তার স্ত্রী ও সন্তানদের অনুপস্থিতি অনেককেই ব্যথিত করেছে। সঙ্গীতার বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনের সেই কথাগুলো মনে পড়ছে যেখানে বলা হয়েছিল– ‘বিবাদী (বিজয়) বিদেশ ভ্রমণ এবং প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া অব্যাহত রেখে আবেদনকারী ও সন্তানদের বারবার অপমানিত করেছেন’।
আরেকজন মন্তব্য করেছেন, নতুন মুখ্যমন্ত্রী, নতুন রানী? থালপতি বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন, কিন্তু আসল গল্প তো সামনের সারিতে। স্ত্রী নেই, সন্তান নেই, অথচ মায়ের সঙ্গে তৃষা বসে আছেন? বিচ্ছেদের গুঞ্জন নাকি অনানুষ্ঠানিক স্বীকৃতি? সঙ্গীতার অনুপস্থিতি কথার চেয়েও বেশি কিছু বলছে।
অন্য এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, যেই পরিবারের আজ আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকার কথা ছিল, তারাই অনুপস্থিত। জোসেফ বিজয় যখন শপথ নিচ্ছেন, তখন তার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া স্ত্রী সঙ্গীতা, ছেলে জেসন সঞ্জয় ও মেয়ে দিব্যা সাশা অনুষ্ঠানে যোগ দেননি।
আরেকজন লিখেছেন, বিজয়ের স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য খুব খারাপ লাগছে, যারা এ অনুষ্ঠানের অংশ হতে পারেননি।
উল্লেখ্য, ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর গত ফেব্রুয়ারিতে চেঙ্গলপাট্টি ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার কোর্টে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন সঙ্গীতা সোর্নালিঙ্গম। আবেদনে তিনি পরকীয়া ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৫ জুন নির্ধারিত হয়েছে।
আবেদনে সঙ্গীতা জানান, ১৯৯৮ সালে যুক্তরাজ্যে তাদের বিয়ে নিবন্ধিত হয় এবং পরে ১৯৯৯ সালে চেন্নাইয়ের রাজা মুথাইয়া মান্ড্রামে হিন্দু রীতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়। তিনি দাবি করেন, প্রথম দিকের দাম্পত্য জীবন সুখী থাকলেও ২০২১ সালে বিজয়ের সঙ্গে এক অভিনেত্রীর কথিত বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের খবর জানার পর থেকেই সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়।
সূত্র: এনডিটিভি
ভিওডি বাংলা/এমএস







